April 25, 2026, 11:01 am
শিরোনাম :
কেমিক্যাল মিশ্রিত ৩,৩৬০ কেজি আম জব্দ যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ শিহাব মোল্লার দোয়া প্রার্থনা হাতিয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের আগমন, শিক্ষকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নীলফামারীতে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের প্রাথমিক বাছাই সম্পন্ন বর্নি ইউনিয়নে যুবদলের কর্মী সম্মেলন: তৃণমূলে ঐক্য ও শক্তি বাড়ানোর আহ্বান বান্দরবান সদর উপজেলার টংগাবতী ইউনিয়নে অপহৃত ৬ রাবার বাগান শ্রমিক সেনাবাহিনীর অভিযানে উদ্ধার কোম্পানীগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ডিমলায় তেলের ‘ফুয়েল কার্ড’ পদ্ধতি: শৃঙ্খলার মাঝেও সাধারণ জনগণের দীর্ঘশ্বাস! পাটগ্রামে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬ পালিত মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

শিক্ষা সংকটে হাতিয়া: একের পর এক কলেজে শতভাগ ফেল

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

শিক্ষা সংকটে হাতিয়া: একের পর এক কলেজে শতভাগ ফেল

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর শিক্ষা ব্যবস্থায় এক হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে। পুরো জেলার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে উপকূলীয় উপজেলা হাতিয়া। একসময় “জ্ঞানই শক্তি” স্লোগানে শিক্ষায় গৌরব করা দ্বীপটি আজ নিমজ্জিত শিক্ষার অন্ধকারে।

দ্বীপবাসীর মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—এই পতনের দায় কার? শিক্ষক, প্রশাসন, নাকি রাজনীতি?

তথ্য অনুযায়ী, হাতিয়া উপজেলার গড় পাশের হার মাত্র ৪৮.৬ শতাংশ, যা নোয়াখালীর ৯ উপজেলার মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, সদর, বেগমগঞ্জ ও চাটখিল উপজেলায় পাশের হার ছিল গড়ে ৭৫ শতাংশের ওপরে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে দ্বীপ সরকারি কলেজে, যেখানে এবার বিভিন্ন বিভাগ থেকে ৪৭৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করেছে ৪০২ জন। অর্থাৎ, গড় ফেলের হার প্রায় ৮৫ শতাংশ। এছাড়া উপজেলার আরও কয়েকটি কলেজে শতভাগ ফেল হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার এই ভয়াবহ ভাঙনের পেছনে দায়ী রাজনৈতিক প্রভাব, শিক্ষকদের অদক্ষতা ও প্রশাসনিক উদাসীনতা। দীর্ঘদিন ধরে হাতিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট, অনিয়ম, এবং মানসম্মত পাঠদানের অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে।

একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়তে চায়, কিন্তু শিক্ষকরা ক্লাসে আসে না। প্রাইভেট না পড়লে পাসই করা যায় না। কলেজে শৃঙ্খলা নেই, তদারকিও নেই।

শিক্ষাবিদদের মতে, হাতিয়ার মতো দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও শিক্ষার্থী-অভিভাবক সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়।

যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে হাতিয়ার শিক্ষা হয়তো সত্যিই পরিণত হবে ‘হারানো আলোর দ্বীপে’।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা