রায়গঞ্জে ফুলজোড় নদীপাড়ে বসেছে বউ মেলা, নারীদের মিলনমেলা
মোঃ সিমান্ত তালুকদার
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় সনাতন
ধর্মাবলম্বীদের চৈত্র মাসের অষ্টমী পূণ্যস্নান উৎসব শেষ হওয়ার পরদিন আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ও বহুল পরিচিত ‘বউ মেলা’। মেলাটি বসে উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের ফুলজোড় নদীর তীরে ভূাগাঁতী এলাকায়। এই মেলার অন্যতম বিশেষত্ব হলোড়এখানে আগত ক্রেতাদের বড় অংশই নারী। শুধু তাই নয়, অনেক দোকানেও নারী বিক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। মেলার ঐতিহ্য ও তাৎপর্য সম্পর্কে ভূাগাঁতী এলাকার বাসিন্দা সুশান্ত কুমার তালুকদার জানান, চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পাপমোচনের গুরুত্বপূর্ণ দিন। মহাভারতের বর্ণনা অনুযায়ী ব্রহ্মপুত্রের জলে স্নান করে বিষ্ণুর অবতার পরশুরাম মুনি পাপমুক্ত হয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। তিনি আরও বলেন, ব্রহ্মপুত্রের শাখানদী ফুলজোড় নদীতে অষ্টমী পূণ্যস্নান উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা এসে অংশ নেন। স্নান উপলক্ষে ওইদিন
উপজেলার তিনটি স্থানে মেলা বসে। তবে সেখানে নারীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় পরদিন ভূাগাঁতী এলাকায় শুধুমাত্র নারীদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয় বিশেষ এই ‘বউ মেলা’। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরের দিকে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালির সামগ্রী ছাড়াও বিক্রি হচ্ছে ঝুড়ি, কুলা, মুড়কি, নানান স্বাদের মিষ্টান্ন, শিশুদের খেলনা, মসলাজাতীয় পণ্য ও মৌসুমি ফল। ভূাগাঁতী এলাকার বাসিন্দা পল্লবী রাণী বলেন, এবার বউ মেলায় মানুষের অংশগ্রহণ আগের মতোই বেড়েছে। তিনি বলেন, “শিশুদের আবদার মেটাতে যেমন কেনাকাটা করতে হয়, তেমনি সংসারের দরকারি জিনিসও মেলায় পাওয়া যায়।” বগুড়া জেলা সদর থেকে মেলায় আসা প্রতীভা রায় জানান, মেলা উপলক্ষে তিনি বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বউ মেলা শুধু কেনাবেচার স্থান নয়ড়এটি এলাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জীবন্ত নিদর্শন। স্থানীয় একটি মাধ্যমিক
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দীপ্তি সরকার বলেন, মা ও বাড়িতে বেড়াতে আসা নারী আত্মীয়দের সঙ্গে মেলায় আসে। সে জানায়, দীর্ঘদিন পর মেলায় এসে তার ভালো লাগছে এবং মেলার পরিবেশ তাকে আনন্দিত করেছে। মেলায় বাঁশের তৈরি কুলা ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে দোকান বসিয়েছেন প্রায় ৬০ বছর বয়সী মায়া দাস। তিনি বলেন, “বিক্রি কম হোক বা বেশিড়বউ মেলায় না এলে মন ভালো লাগে না।” তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে আশপাশে অনেক হাট-বাজার গড়ে ওঠায় মেলায় পাওয়া অনেক পণ্য এখন সারা বছরই কেনা যায়। ফলে আগের তুলনায় বিক্রি কিছুটা কমে গেছে। স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শাহীন হোসেন বলেন, “কথায় আছেড়বারো মাসে তেরো পার্বণ। বউ মেলা যেন পার্বণের বাইরেও আরেকটি উৎসব। সব বয়সী নারীর অংশগ্রহণই এই মেলার প্রাণ, যা মেলাকে করে তোলে আরও আনন্দঘন।”