সামান্য বৃষ্টি ও গ্রীষ্মকালের ধুলাবালিতে অচল রায়গঞ্জের ধানগড়া ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী
মোঃ সিমান্ত তালুকদার
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ।
সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়ে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের একমাত্র প্রধান সড়ক। কাঁচা অবস্থায় থাকা এই সড়কটি বর্ষাকালে কাদায় ভরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে ধুলাবালিতে ঢেকে থাকে। ফলে জরুরি সেবার কোনো যানবাহন গ্রামগুলোর ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছে এলাকাবাসী। কাঁদা মাড়িয়ে কিংবা ধুলাবালির মধ্য দিয়েই স্কুল-কলেজে যেতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধানগড়া ইউনিয়নের করিলাবাড়ি থেকে শৌলী সবলা গ্রামের সংযোগ সড়কটি বৃষ্টি হলেই মাটি ও পানির সংমিশ্রণে কাদার ভাগাড়ে পরিণত হয়। আবার গ্রীষ্ম মৌসুমে সড়কজুড়ে ধুলাবালি উড়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখনো সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট শেষ হলেই তাদের আর দেখা মেলে না। কাঁচা সড়কটি পাকাকরণের দাবিতে একাধিকবার স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা চেয়ারম্যান এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি। ফলে প্রতিদিন বাধ্য হয়েই এই দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ধানগড়া ইউনিয়নের আবুদিয়া মিঞা পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন,
“সামান্য বৃষ্টিতেই করিলাবাড়ি বটতলা থেকে শৌলী সবলা হয়ে জোলাগাতি পর্যন্ত প্রায় ৩.৮৪ কিলোমিটার রাস্তা হাঁটুসমান কাদায় পরিণত হয়। এই রাস্তা দিয়েই মাঠের ফসল বাড়িতে নিতে হয় এবং কৃষিপণ্য বাজারজাত করা হয়। আবার গ্রীষ্মকালে ধুলাবালির কারণে চলাচল করা যায় না, অনেক শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কাদায় পড়ে গিয়ে শিক্ষার্থীরা আহত হয়, স্কুল ড্রেস নষ্ট হওয়ায় অনেকেই বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে শুধু শুনে আসছি রাস্তাটি পাকা হবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কাজ শুরু হয়নি।”
উল্লেখ্য, সড়কটির পাশেই অবস্থিত শৌলী সবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষকে অতিকষ্টে এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সামান্য বৃষ্টি বা ধুলাবালিতেই শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম নষ্ট হয়ে যায়, যা তাদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতির ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি—দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ ও সংস্কার করে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একজন প্রতিনিধি জানান,
“আমরা ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছি। পরবর্তী ধাপে সড়কটি উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।”