September 14, 2026, 3:43 am
শিরোনাম :
নীলফামারীতে মাদকবিরোধী মতবিনিময় সভা ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার অচল, ১৫ দিনের আল্টিমেটাম গোপালগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাংলাদেশ চিশতিয়া জাকের মঞ্জিলের উদ্যোগে ৫০তম সুবর্ণ জয়ন্তী ও ইছালে সওয়াব মাহফিল গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু ডোমারে মাদকসহ ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ রুপা বেগম আটক গৌরবের ২৫ বছরে হাতিয়া ছাত্র কল্যাণ পরিষদ রজতজয়ন্তী উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রাজৈরে সোলার লাইট ও গ্রামের প্রবেশদ্বারে নান্দনিক তোরণ নির্মাণ গোপালগঞ্জে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

আলুবোখারা আর টমাটোর টক–ঝাল–মিষ্টি চাটনি: ঐতিহ্য আর নতুনত্বের মিলন

মানব বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক

আলুবোখারা আর টমাটোর টক–ঝাল–মিষ্টি চাটনি: ঐতিহ্য আর নতুনত্বের মিলন

রেসিপির লেখক: তামান্না বেগম
জেলা: ঢাকা

বাংলাদেশের প্রতিটি রান্নাঘরেই আছে নিজস্ব স্বাদের গল্প। কারও হাতের রান্না ঝাল বেশি, কারওটা মিষ্টি, আবার কেউ টক দিয়ে খাবারে আনে এক ভিন্ন আমেজ। সেই ধারাবাহিকতায় ঢাকার গৃহিণী তামান্না বেগম তৈরি করেছেন এক অনন্য স্বাদের চাটনি—আলুবোখারা আর টমাটোর টক–ঝাল–মিষ্টি চাটনি। এই চাটনি শুধু এক পদ নয়, এটি যেন এক রসনাবিলাসের উৎসব।

তামান্না বেগম বলেন, “আমাদের বাড়িতে অতিথি এলে পোলাও-বিরিয়ানির সঙ্গে এই চাটনি না থাকলে খাবার অসম্পূর্ণ মনে হয়। ছোটবেলা থেকেই মায়ের হাতের টমেটো চাটনি খেতে খুব পছন্দ করতাম। পরে আমি নিজের মতো করে তাতে আলুবোখারা, তেঁতুল ও রসুন যোগ করে তৈরি করেছি এই নতুন স্বাদ।”

এই চাটনির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এর তিন ধরণের স্বাদ একসঙ্গে মেলে ধরা। টমেটোর হালকা টক, আলুবোখারার গভীর মিষ্টি ও কাঁচামরিচের ঝাঁঝ—সব মিলিয়ে এটি এক অপূর্ব মিশ্রণ। পোলাও, বিরিয়ানি, কাচ্চি, খিচুড়ি কিংবা সাধারণ ভাত—যে কোনো খাবারের সঙ্গেই মানিয়ে যায় এই চাটনি।

উপকরণ:
রান্নার জন্য প্রয়োজন হবে—৩ চা চামচ সরিষার তেল, ২৫০ গ্রাম আলুবোখারা, আধা কাপ কুচি করা টমেটো, ১০০ গ্রাম তেঁতুল, কয়েকটি কাঁচামরিচ, ৩ চা চামচ আস্ত রসুন কোয়া, ১ চা চামচ পাঁচফোড়ন, লবণ স্বাদমতো, ১ চা চামচ আদা-রসুন বাটা, আধা চা চামচ লাল মরিচের গুঁড়া এবং ৪ চা চামচ চিনি।

প্রস্তুত প্রণালী:
প্রথমে আলুবোখারা ও তেঁতুল আলাদা পাত্রে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে যাতে এগুলো নরম হয়ে যায়। এতে রান্নার সময় সহজে গলে গিয়ে চাটনিতে তৈরি হবে ঘন মসৃণ ভাব।

এরপর রান্নার পাত্রে সরিষার তেল গরম করে তাতে কাটা রসুন কোয়াগুলো হালকা ভেজে তুলে রাখতে হবে। এতে চাটনিতে যুক্ত হবে এক আলাদা ঘ্রাণ। একই পাত্রে এবার টমেটো দিয়ে গলে যাওয়া পর্যন্ত নাড়তে হবে। টমেটো নরম হয়ে এলে আদা-রসুন বাটা, লবণ ও লাল মরিচের গুঁড়া যোগ করে ভালোভাবে কষাতে হবে। টমেটো ও মশলার রঙ গাঢ় হয়ে এলে তাতে ভেজানো আলুবোখারা দিয়ে দিতে হবে। এরপর অল্প পানি দিয়ে সিদ্ধ করতে হবে যতক্ষণ না আলুবোখারা মিশে গিয়ে চাটনি ঘন হয়ে আসে।

পানি কিছুটা শুকিয়ে এলে ভিজানো তেঁতুলের কাদা ছেঁকে যোগ করতে হবে। এতে আসবে হালকা টক স্বাদ। এরপর কাঁচামরিচ ও চিনি দিয়ে নাড়তে হবে। চিনি ধীরে ধীরে গলে চাটনিতে আনবে মিষ্টি ও উজ্জ্বল রঙ। চাটনি যখন ঘন হয়ে আসবে, তখন নামিয়ে নিতে হবে চুলা থেকে। ঠান্ডা হলে বোতলে সংরক্ষণ করা যায় কয়েক দিন।

তামান্না জানান, “এই চাটনি আমি প্রায়ই পরিবারের সবাইকে খাওয়াই। অনেকেই রেসিপিটি চেয়ে নেন। এটি রান্না সহজ হলেও স্বাদে অসাধারণ।”

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশৈলীতে টক-ঝাল-মিষ্টির সংমিশ্রণ বহু পুরনো। তবে আলুবোখারা ও টমেটোর এই যুগলবন্দি সেই ঐতিহ্যে এনেছে আধুনিকতার ছোঁয়া।

খাবার টেবিলে এই চাটনির এক চামচই বদলে দিতে পারে পুরো আহারের স্বাদ। তামান্নার ভাষায়—“একটু যত্ন, একটু ভালোবাসা আর সঠিক অনুপাতেই তৈরি হয় এই চাটনির জাদু।”

আলুবোখারা আর টমাটোর টক–ঝাল–মিষ্টি চাটনি—এ যেন এক বাঙালি স্বাদের নতুন অধ্যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা