August 14, 2026, 6:55 pm
শিরোনাম :
মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুলা আল মামুন সম্মানিত নীলফামারী জেলা প্রশাসককে গ্রীন ভয়েসের দুর্লভ রক্তকাঞ্চন গাছ বিতরণ ​নীলফামারী জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধার ও গ্রেফতার গোপালগঞ্জে ১৫ আগস্ট ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার, বিজিবি মোতায়েন নীলফামারীতে সাপের কামড়ে, শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু শিবগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জশনে জুলুস উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রামে নাগরিক গোলটেবিল কথা বলবেন ভোলার- মাকসুদ বাংলাদেশ চিশতিয়া জাকের মঞ্জিল দরবার শরিফ: দ্বীনি শিক্ষা ও রূহানি সাধনার এক অনন্য কেন্দ্র নাটোরে সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন,দুই ওসির প্রত্যাহার চেয়ে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম গোপালগঞ্জে শপিংমল মার্কেট দোকান বন্ধের অভিযান

ভাপা পিঠা : বাংলার শীত-ঐতিহ্যের মোলায়েম স্বাদ

স্টাফ রিপোর্টার

ভাপা পিঠা : বাংলার শীত-ঐতিহ্যের মোলায়েম স্বাদ

রেসিপি লেখিকা : সৈয়দা দিল আরা আক্তার নিরা

বাংলার ঋতুচক্রে শীত শুধু কুয়াশা আর শীতল বাতাসই আনে না—গ্রামের ঘরে ঘরে নিয়ে আসে নতুন ধানের ঘ্রাণ, উঠোনে পিঠা বানানোর সরগরম আয়োজন, আর আড্ডার উষ্ণতা। সেই পিঠার তালিকায় সবচেয়ে আদরে রাখা নাম—ভাপা পিঠা। নরম তুলতুলে এই পিঠা যেন বাঙালির স্মৃতি-ভাণ্ডারের চিরন্তন অংশ।

ইতিহাস ও উৎস

পিঠা বাংলাদেশের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতির একটি প্রাচীন উপাদান। নবান্ন উৎসবের সঙ্গে পিঠা প্রস্তুতির প্রচলন বহু পুরনো। ধান-চাল-নারকেল-গুড়—এই সহজলভ্য উপাদানের সমন্বয়ে শীতকালে পিঠা বানানোর ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।
ভাপা পিঠা মূলত চালের গুঁড়ো, নারকেল ও গুড় দিয়ে তৈরি একধরনের বাষ্পে-সেদ্ধ পিঠা। গ্রামের মাটির চুলো, হাঁড়ি-পাতিল বা বিশেষ ‘পিঠার সাঁজোয়া’ ব্যবহার করে ভাপে সেদ্ধ করা হতো এই পিঠা।

বাংলার গৃহস্থ নারীরা নতুন ধানের গুড়ো দিয়ে ভাপা পিঠা বানাতেন অতিথি আপ্যায়ন, শীতের আসর কিংবা নবান্ন উৎসবে। সময়ের সাথে শহুরে রান্নাঘরে স্টিমার বা রাইস কুকারে ভাপা পিঠার স্বাদ অপরিবর্তিত ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছে।

ভাপা পিঠার রেসিপি

উপকরণ

চালের গুঁড়ো — ২ কাপ

নারকেল কুচি — ১ কাপ

খেজুরের গুড় — ½–¾ কাপ (স্বাদ অনুযায়ী)

লবণ — এক চিমটি

গরম পানি — প্রয়োজনমতো

চালের গুঁড়ো প্রস্তুতি (ইচ্ছে হলে বাড়িতে)

১. চাল ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে আধা ঘণ্টা শুকিয়ে নিন।
২. শুষ্ক অবস্থায় শিল-পাটা বা ব্লেন্ডারে গুঁড়ো করুন।
৩. হালকা ভেজা গুঁড়ো চালনি করে নিন।

ভাপা পিঠা তৈরির ধাপ

১. গুঁড়ো ভেজানো
চালের গুঁড়োর সাথে একটু লবণ মেশান। হাতে গরম পানি ছিটিয়ে গুঁড়োটি ভিজিয়ে ঝুরঝুরে করে নিন। যেন মুঠো করলে শক্ত হয়, কিন্তু চাপ ছাড়লে আবার ঝুরঝুরে হয়ে যায়।

২. পুর তৈরি
নারকেল কুচির সাথে গুড় মেশান। চাইলে এলাচ গুঁড়ো দিতে পারেন।

৩. পিঠ গড়া

এক চামচ ভেজানো চালের গুঁড়ো দিয়ে হালকা চাপুন।

উপরে পুর দিন, আবার গুঁড়ো দিয়ে ঢেকে দিন।

৪. ভাপে সেদ্ধ করা
স্টিমার বা হাঁড়ির ফুটন্ত পানির ওপরে ঝাঁজরি রেখে ঢেকে দিন।
৫–৭ মিনিট ভাপ দিলেই পিঠা ফুলে নরম হয়ে তৈরি।

পরিবেশন ও পরিবেশনের ইতিহাস

আগে গ্রামে শীতের সকালে ভাপা পিঠা খাওয়া ছিল এক ধরনের উৎসব। হাঁড়ির ঢাকনা খুলতেই ভেসে আসা ধোঁয়া আর নারকেল-গুড়ের সুগন্ধ পরিবারের সবাইকে টেনে আনত রান্নাঘরে। আজও সেই স্মৃতি অমলিন—শহরের রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ঘরোয়া আয়োজন—সব জায়গাতেই শীত আসলেই ভাপা পিঠার রাজত্ব।

শেষ কথা

ভাপা পিঠা শুধু একটি খাবার নয়—এটি বাংলার আবেগ, ঐতিহ্য ও শীত-সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক। ধোঁয়া ওঠা নরম এই পিঠা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একটু যত্ন আর সময় নিয়ে তৈরি ঘরোয়া খাবারের স্বাদ কোনো আধুনিক রান্নার সঙ্গে তুলনাহীন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা