July 30, 2026, 7:35 pm
শিরোনাম :
সিংড়ার চলনবিলে বজ্রপাতে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হাতিয়ায় হিন্দু পল্লী চিকিৎসকের দোকানে হামলার অভিযোগ, আটক ৩ ​জলঢাকায় ফুয়েল কার্ড প্রাপ্তি আরও সহজ: শর্ত শিথিল করল উপজেলা প্রশাসন বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু, এলাকায় শোক সুন্দরগঞ্জে বজ্রপাতে শিশুসহ ৩ জন নিহত, আহত ১ এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে হলের চলন্ত ফ্যান খুলে পড়ল শিক্ষার্থীর মাথায় লামার সরইয়ে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তীব্র গরমে ১৮ শিক্ষার্থীর হিট স্টক কুমিল্লায় এআরও বুলেট বৈরাগী হত্যার প্রতিবাদে ডুমুরিয়ায় মানববন্ধন লোহাগাড়ার বড়হাতিয়ায় ৫০তম জবলে সিরাত মাহফিল সম্পন্ন, ঐতিহ্যের পেছনে বলিখেলার ইতিহাস নেছারাবাদে জন্মগতভাবে বিকলঙ্গ সন্তান ত্যাগে পিতার চাপ, মায়ের দৃঢ় অবস্থান

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে চরম অনিয়ম—সেনপাড়ায় নিম্নমানের উপকরণে কালভার্ট নির্মাণ

মোঃ নয়ন আলী পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে চরম অনিয়ম—সেনপাড়ায় নিম্নমানের উপকরণে কালভার্ট নির্মাণ

মোঃ নয়ন আলী
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের সেনপাড়া গ্রামে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (২০২৫-২৬ অর্থবছর) ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকার সড়ক সংস্কার ও নতুন কালভার্ট নির্মাণকাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন তদন্তে দেখা গেছে—নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট, সিমেন্ট ও রড; এমনকি গুরুত্বপূর্ণ অংশে যথাযথ রড ছাড়াই ঢালাই সম্পন্ন করা হচ্ছে।

নির্মাণস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কাঠের তৈরি দুর্বল ফরমার ওপর পাতলা ও অপ্রতুল রড বসানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে রডের ফাঁক এতটাই বেশি যে স্বাভাবিক নির্মাণ মানদণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শ্রমিকরা জানায়, শুধু সিমেন্ট-বালুর মিশ্রণ ঢেলে ঢালাই করা হচ্ছে—যা কোনোভাবেই সরকারি মানদণ্ড পূরণ করে না।

এ সময় ঠিকাদার, তদারকি কর্মকর্তা বা স্থানীয় সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে সাইটে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বরাদ্দ কম দেখিয়ে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহৃত হচ্ছে। পরিচয় গোপন রেখে এক শ্রমিক জানান, “হেলাল যেমনভাবে করতে বলেছে, তেমনভাবেই করছি।”

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কালভার্টের প্রতিটি ধাপে মানসম্মত রড, পাথর, ইট ও সিমেন্ট ব্যবহারের পাশাপাশি প্রকৌশলী এবং ইউনিয়ন পরিষদের তদারকি থাকা বাধ্যতামূলক। তবে এখানে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের শুরুর দিকে ইউপি সদস্য একরামুল হক ও মহিলা সদস্য পারুল আক্তার উপস্থিত থাকলেও পরে আর কেউ নজরদারিতে আসেননি। তারা আরও জানান—কালভার্টের নিচে কোনো রড নেই, উপরে সামান্য রড দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে। নিচে ১৫ ইঞ্চি ও উপরে ১০ ইঞ্চি ইট বসিয়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। তাদের আশঙ্কা, “এভাবে কাজ করলে কালভার্ট যেকোনো সময় ভেঙে পড়বে। সরকারের টাকা নষ্ট হবে, এলাকাবাসীও ভোগান্তিতে পড়বে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকের হোসেন জানান, “সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে ইউপি সদস্য একরামুল হক দাবি করেন, “নির্মাণাধীন কালভার্টটি আমার নিজস্ব অর্থায়নে হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু করিনি; কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে।”

নির্মাণস্থলের এমন অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা