ভোলার কুকরিমুকরি—পর্যটকদের পরিবারভিত্তিক ভ্রমণের স্বপ্নলোক
এ কে এম নুর আলম জিকু, ভোলা প্রতিনিধি
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডের এক অপার সৌন্দর্যের ঠিকানা চর কুকরিমুকরি। সবুজে ঘেরা, নদী ও খালের জালে বোনা এই চর এখন শুধু একটি দ্বীপ নয়—এটি পরিণত হয়েছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে।
চরের চারপাশে সুন্দরবনের আদলে তৈরি বাগান, বাঁকানো খাল আর নীরব প্রাকৃতিক সুর মিলে যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত চিত্রপট। এখানে রয়েছে সরকারি অত্যাধুনিক রেস্ট হাউস, পাশাপাশি হোমস্টে সার্ভিস, যেখানে পরিবার পরিজনসহ পর্যটকরা ঘরোয়া পরিবেশে থাকতে পারেন নিশ্চিন্তে ও আরামে। একসময় এই সেবাগুলি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, বিশেষত পরিবার উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে চালু হয়েছিল, যা স্থানীয় মানুষের জীবনমানেও এনেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।
ভ্রমণপিপাসুদের সুবিধার্থে নদী পারাপারের জন্য রয়েছে স্পিডবোট, লোকাল ইঞ্জিনচালিত নৌকা, এমনকি রিজার্ভ লঞ্চ সার্ভিসও। দিনভর ঘোরাঘুরির মাঝে বিশ্রামের জন্য আছে ঝুলন্ত ব্রিজ, মাকড়সার জাল আকৃতির দোলনা, নারিকেল বাগান ও বসার সিট—যেগুলো পরিবারভিত্তিক পিকনিক ও বিনোদনের জন্য আদর্শ স্থান।
এছাড়াও রয়েছে ঘোড়ার গাড়ি, বোরাক, অটোরিকশা ও মোটরবাইক ভাড়া সার্ভিস, যা পর্যটকদের দ্বীপ ভ্রমণকে করে তোলে আরও রোমাঞ্চকর ও রঙিন।
প্রতিবছর শীত মৌসুমে হাজারো পর্যটক পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন এই অনিন্দ্য সুন্দর কুকরিমুকরিতে। প্রকৃতির কোলঘেঁষা এই দ্বীপ যেন এক অজানা স্বপ্নের রাজ্য, যেখানে মিলেমিশে আছে সবুজ প্রকৃতি, শান্ত পরিবেশ ও মানুষের হাসিখুশি মুখ।
ভোলার এই কুকরিমুকরি আজ দেশের পর্যটন মানচিত্রে এক উজ্জ্বল নাম—যেখানে প্রতিটি ভ্রমণই হয়ে ওঠে জীবনের এক মধুর স্মৃতি।