বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মনিরুজ্জামান খুলনা রেঞ্জে বদলি, জনমনে নানা আলোচনা
ইমন রহমান বরিশাল বিভাগীয় প্রধানয়
ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানকে ভোলা জেলা থেকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ হিসেবে ‘জনস্বার্থে’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড অপারেশনস) স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মনিরুজ্জামানকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র না নিলে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য হবেন।
এদিকে ওসির এই আকস্মিক বদলিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি দানিশ চৌধুরীর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের দুই দিন পর এই বদলির প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি ছাত্রদল নেতা দানিশ চৌধুরীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে লেখা হয়, ‘নিষিদ্ধদের বিরুদ্ধে ওসি বোরহানউদ্দিনের ভূমিকা কী? জানেন কিছু আপনারা…?’
তবে ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসের সঙ্গে ওসি মনিরুজ্জামানের বদলির কোনো সরাসরি সংযোগ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের প্রজ্ঞাপনেও বদলির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি, কেবল রুটিন অনুযায়ী ‘জনস্বার্থে’ বদলির কথা বলা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, মো. মনিরুজ্জামান ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে বোরহানউদ্দিন থানায় ওসির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা, অপরাধ দমন এবং বিভিন্ন মামলার আসামি গ্রেপ্তারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছরের মে ও জুলাই মাসে তিনি বিভিন্ন সাফল্যের জন্য সম্মাননাও লাভ করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দায়িত্ব পালনকালে ওসি মনিরুজ্জামান অপরাধ দমনে তৎপর ছিলেন। এমন প্রেক্ষাপটে তাঁর এই বদলি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি, নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বদলি প্রসঙ্গে ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “পুলিশের চাকরিতে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেখানে দায়িত্ব দেবেন, সেখানেই সততার সঙ্গে কাজ করব।”
এ বিষয়ে ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওসার জানান, ওসির এই বদলি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে হয়েছে। এর বাইরে এ বিষয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত কিছু জানা নেই।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ হিসেবে ‘জনস্বার্থে’ শব্দটি ব্যবহারের ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। পুলিশ বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিলে এ নিয়ে চলমান আলোচনা ও কৌতূহলের অবসান হতে পারে।