বান্দরবানের লামায় মৃত্যু ও ওয়ারিশ সনদ না পেয়ে দিশেহারা নারী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ক্রাইম রিপোর্টার: মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা উপজেলার ৬ নম্বর রূপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদ না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এক ভুক্তভোগী নারী। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় সনদ না পাওয়ায় পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই নারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা নওমুসলিম নারী পিংকিনু মার্মা তার পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। কিন্তু মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী পিংকিনু মার্মা জানান, তার পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষার জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম বিষয়টি বারবার এড়িয়ে যান। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তৃতীয় পক্ষের স্বার্থে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদ এখনো প্রদান করা হয়নি বলে স্বীকার করেন। তবে কেন সনদ দেওয়া হয়নি—এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।
এ ঘটনায় আইনি প্রতিকার চেয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, অভিযোগটি তদন্তের জন্য লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী নারীর পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে প্রভাবশালী একটি মহল অবৈধভাবে চাপ সৃষ্টি করছে—এমন প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে ভোগান্তির নিরসন করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী নারী চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেছেন। বান্দরবানের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মাহবুবুল করিম বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সনদ প্রদান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভোগান্তির কোনো সুযোগ নেই।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং ভুক্তভোগীর সমস্যা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে প্রয়োজনীয় সনদ না পাওয়ায় পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছেন না বলে জানান পিংকিনু মার্মা। তিনি বলেন, “সহযোগিতা চাইতে গেলে অনেকেই স্বার্থপরের মতো আচরণ করছেন। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলমের বিরুদ্ধে সনদ প্রদানসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবাকে কেন্দ্র করে হয়রানি, প্রভাব খাটানো এবং জমি সংক্রান্ত অনিয়মের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা নিয়ে এমন অনিয়মের দ্রুত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।