লামার রূপসীপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি দখলের অভিযোগ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’—বললেন সাবেক মেম্বার বারেক।
ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বান্দরবান (প্রতিনিধি)
বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের দরদরী এলাকায় অবস্থিত একটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেম্বার আব্দুল বারেক সরকারি ওই জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির জন্য নির্ধারিত জমির একটি অংশে সম্প্রতি বসতঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়, যা জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবি, সরকারি স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের জমি দখল হলে ভবিষ্যতে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল বারেক বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা জমি দখলের অভিযোগ “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট”। তিনি দাবি করেন, “আমি কোনো সরকারি জমি দখল করিনি। আমি যে জায়গায় ঘর নির্মাণ করেছি, তার অর্ধেক আমার নিজস্ব খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত এবং বাকি অংশ পিংকিনু মার্রমার নামীয় ব্যক্তির মালিকানাধীন।”
তিনি আরও বলেন, একটি “কুচক্রী মহল” তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। “আমাকে হেনস্তা করার জন্যই এই মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ায়, আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব,”—বলেন তিনি।
এছাড়া আব্দুল বারেক একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরে দাবি করেন, রূপসীপাড়া এলাকায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত বেশ কিছু জমির প্রকৃত মালিক পিংকিনু মার্রমা। তার দাবি অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, কবরস্থান, মাদ্রাসা, রেশম বোর্ড অফিস, কমিউনিটি ক্লিনিক, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ও কৃষি অফিসসহ বিভিন্ন স্থাপনার জমি আসলে পিংকিনু মার্রমার মালিকানাধীন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব জমি দখল করে রেখেছেন।
তবে আব্দুল বারেকের এই দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এদিকে সচেতন মহল বলছে, সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি সংক্রান্ত এমন বিরোধ নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে ভূমি রেকর্ড যাচাই এবং প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন। তারা মনে করেন, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।