April 17, 2026, 4:36 pm
শিরোনাম :
রায়গঞ্জে শ্যালো মেশিন চুরি, পুলিশি অভিযানে উদ্ধার—আটক ২ লোহাগড়ায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট: অচল জনজীবন, চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ নুরুল আমি নিঝুম দ্বীপে বিএনপির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন পাটগ্রাম উপজেলায় জ্বালানি তেল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ লামার মাতামুহুরী নদীর সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে পর্যটক নিখোঁজ, মরদেহ উদ্ধার চিরিরবন্দরে ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ যুবক আটক চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রস্তাব অনুমোদন নীলফামারী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে উদ্বোধন হলো বাস সার্ভিস রায়গঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার লামার আজিজনগরে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

বান্দরবানের লামায় ১৪৫ ধারা ভেঙে দোকান দখলের অভিযোগ

ক্রাইম রিপোর্টার: মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, বান্দরবান

বান্দরবানের লামায় ১৪৫ ধারা ভেঙে দোকান দখলের অভিযোগ

ক্রাইম রিপোর্টার
মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক,
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে থানায় এফআইআর ট্রিট করে মামলার আইও বিরোধপূর্ণ দোকানের তালা ভাঙতে পারে কিনা—এমন প্রশ্ন তুলেছেন মামলার বিবাদী আলমগীর নামের এক ব্যবসায়ী।

ওই ব্যবসায়ী জানান, বিগত ২৬ জুলাই ২০২৩ তারিখে তিনি কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল মাবুদের কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকা মূল্যে ১৭৪ বর্গফুটের লামা বাজারস্থ একটি দোকান প্লট স্থাপনাসহ নোটারি পাবলিক, কক্সবাজার কার্যালয়ে হস্তান্তর চুক্তিনামার মাধ্যমে ক্রয় করে দখল বুঝে নেন। এর পর ১ আগস্ট ২০২৩ তারিখে ভাড়া চুক্তিনামার মাধ্যমে বিক্রেতা মোঃ আব্দুল মাবুদকে মাসিক ৬ হাজার টাকা করে ভাড়া দেন।

কিন্তু ভাড়াটিয়া আব্দুল মাবুদ মাসিক ভাড়া প্রদান না করে চুক্তি লঙ্ঘন করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে বিক্রিত দোকান প্লটটির মালিকানা নিজের বলে দাবি করেন।

এই ঘটনায় ক্রয়সূত্রে দোকান প্লটের মালিক আলমগীর লামা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৫ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে পিটিশন মামলা দায়ের করেন।

মামলায় তদন্ত শুনানি শেষে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে বলা হয়, “সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী নালিশী জমিতে বাদীর দখল রয়েছে। ফলে উক্ত ভূমিতে ২য় পক্ষ প্রবেশ করলে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকায় ১ম পক্ষের দখলীয় ভূমিতে ২য় পক্ষের প্রবেশ বারিত করা হলো। মামলা নথিভুক্ত করা হলো।”

এই আদেশের পর স্থানীয় গণ্যমান্যদের মধ্যস্থতায় বিক্রেতা মোঃ আব্দুল মাবুদ দোকানঘরটি ক্রেতা-মালিক আলমগীরের দখলে ছেড়ে দেন। ওই সময় ৪ মাসের ভাড়া বকেয়া থাকায় কয়েকটি কাপড়ের বান্ডিল আলমগীরের জিম্মায় দোকানে রেখে যান।

এদিকে নোটারি পাবলিক চুক্তিনামার শর্তানুযায়ী আব্দুল মাবুদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে নামজারি করে দিতে বললে, কিছু মানুষের কুপরামর্শে অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। চাহিত টাকা দিতে না পারলে আলমগীরকে উচ্ছেদ ও মামলা-হামলার হুমকি দেন মোঃ আব্দুল মাবুদ ও তাঁর সহযোগীরা। এসব বিষয়ে আলমগীর বাদী হয়ে মোঃ আব্দুল মাবুদসহ ৮ জনকে আসামি করে লামা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর মামলা নং ৪৪৮/২৫ দায়ের করেন, যা বর্তমানে সহকারী পুলিশ সুপার, লামা সার্কেলের তদন্তাধীন রয়েছে।

এক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারা একটি প্রতিরোধমূলক ফৌজদারি প্রক্রিয়া, যা সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণ করে না; বরং শান্তি রক্ষার জন্য সাম্প্রতিক দখল নির্ধারণ করে। এই ধারা অনুযায়ী জমি বা পানি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে শান্তিভঙ্গ রোধ করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ৩৯ নং আদেশ, রুল ১/২ এবং ১৫১ ধারায় প্রতিকার চেয়ে এ বিষয়ে আলমগীর বাদী হয়ে আব্দুল মাবুদসহ তিনজনকে বিবাদী করে বান্দরবান বিজ্ঞ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে ঘোষণা ও চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা (নং ১৭০/২০২৫) দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

অপরদিকে মোঃ আব্দুল মাবুদ বাদী হয়ে লামা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর মামলা নং ৪২/২৬ দায়ের করেন। মামলায় আলমগীরসহ আরও ৫ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলায় বিজ্ঞ আদালত লামা থানাকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। ১৫ মার্চ লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মামলাটি এফআইআরভুক্ত করে সাব-ইন্সপেক্টর এসএম গোলাম কিবরিয়াকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন।

এদিকে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় সাব-ইন্সপেক্টর এসএম গোলাম কিবরিয়া বিরোধীয় দোকানে গিয়ে ওয়ার্কশপ শ্রমিক দিয়ে বৈদ্যুতিক যন্ত্রের মাধ্যমে দোকানের তালা ভেঙে কলাপসিবল গেট খুলে বস্তাভর্তি কিছু মালামাল গণনা করছেন।

বাদী-বিবাদীর অনুপস্থিতিতে কিংবা আদালতের নির্দেশ ব্যতীত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো মামলাধীন দোকানের তালা ভাঙতে পারেন কি না—এমন প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করেছেন মামলার বিবাদীসহ অনেকেই।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, “এফআইআর গ্রহণ করে আসামিদের সন্ধান করা হচ্ছে এবং দোকানের ভেতরে কী মালামাল আছে তার তালিকা প্রস্তুতের জন্য তালা ভাঙা হয়েছে।” তালা ভাঙার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা ছিল কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে চুরির মামলা লামা থানায় এফআইআর হিসেবে নেওয়া হয়েছে। মামলার ৫ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে দণ্ডবিধির ১৪৩/৪২৭/৩৭৯ ধারায় আলামত জব্দ, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের ১৬১ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ, আংশিক স্কেচ ম্যাপ প্রস্তুত এবং আদালতে গ্রহণযোগ্য তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা প্রয়োজন। সে কারণে দোকানের তালা খোলা হয়েছে। এ সময় বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের সাক্ষী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি।”

ওসি মহোদয় ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা