ডিমলায় মানব পাচারকারী আসামির থানায় উপস্থিতি নিয়ে তোলপাড়; ওসির ব্যাখ্যায় পরিস্থিতি শান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক,আব্দুল হালিম নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
নীলফামারীর ডিমলায় আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের এক অভিযুক্ত আসামির থানায় উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন থেকে ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরবর্তীতে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জনাব, শওকত আলী নিজে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
জানা গেছে, গত ০৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ডিমলা থানা কর্তৃক আয়োজিত একটি বিশেষ এবাদাত ও ইফতার অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত এবং বিচারাধীন মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত এক আসামির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। একজন চিহ্নিত অপরাধী কীভাবে প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অংশ নিলেন, তা নিয়ে কয়েক দিন থেকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ছাত্র জনতার মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং প্রশাসনের কাছে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবিতে আজ রবিবার বিকেল ৩:৩০টায় ডিমলার ‘অম্লান চত্বরে’ (উপজেলা পরিষদ মোড়) এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করে উপজেলার সর্বস্তরের ছাত্র জনতা।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অভিযোগ করেন, একজন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত আসামি কীভাবে থানা আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ওসির কাছ থেকে না পাওয়ায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
বিক্ষোভের মুখে এক পর্যায়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজেই মানববন্ধনস্থলে উপস্থিত হন এবং আন্দোলনকারীদের সাথে সরাসরি কথা বলেন। তিনি জনমনে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা নিরসনে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, বর্তমানে পবিত্র মাহে রমজান মাস চলছে। থানার অভ্যন্তরে মসজিদ থাকায় মুসল্লিদের ইবাদত ও ধর্মীয় কাজের সুবিধার্থে থানা প্রাঙ্গণ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।
ওসি মহোদয় উল্লেখ করেন, ইবাদতের উদ্দেশ্যে যে কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারেন এবং সেই প্রেক্ষাপটেই অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছিল না বরং রমজানের ধর্মীয় পরিবেশের কারণে সাধারণ যাতায়াতের অংশ হিসেবেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কোনো যোগসাজশ বা উদ্দেশ্য ছিল না বলে তিনি বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ আনুকূল্য নেই এবং এটি কেবলই একটি ভুল বোঝাবুঝি—ওসির এমন সরাসরি আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা শান্ত হন। ওসির তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে ছাত্র জনতার মাঝে তৈরি হওয়া ক্ষোভের অবসান ঘটে এবং বিকেলের দিকে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
কর্মসূচি চলাকালীন উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ উক্ত ঘটনার পেছনে কোনো প্রশাসনিক গাফিলতি বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান। জবাবে ওসি মহোদয় জানান, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে থানার মসজিদ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখানে সাধারণ মুসল্লি হিসেবে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত ধৈর্য ও স্বচ্ছতার সাথে সাংবাদিকদের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, অপরাধীদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।
শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি:
ওসির পক্ষ থেকে এমন যৌক্তিক ও তথ্যবহুল ব্যাখ্যা পেয়ে উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ সন্তোষ প্রকাশ করেন। ওসির বক্তব্যে জনমনে থাকা ধোঁয়াশা কেটে গেলে বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি শেষ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সাড়া ও সরাসরি জবাবদিহিতায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।