ডিমলায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত: মানুষের ঢল
আব্দুল হালিম ডিমলা উপজেলা প্রতিনিধি
পৌষের পড়ন্ত বিকেলে ধুলো উড়িয়ে টগবগিয়ে ছুটে চলল তেজি ঘোড়া। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ২০২৬ ইং পশ্চিম সাতজান মাস্টারপাড়া যুব ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তুখোড় সব ঘোড়সওয়ারদের লড়াই দেখতে মানুষের ঢল নামে।
উদ্বোধন ও অতিথিবৃন্দ:
অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন অত্র ক্লাবের সভাপতি ও সাবেক যুবদল নেতা জনাব মো: তাজুল ইসলাম। প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব মো: রফিকুল ইসলাম (রফিক)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নীলফামারী জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যক্ষ মো: মনোয়ার হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মো: গোলাম রব্বানী প্রধান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জনাব এড: মো: নূরুল হক এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জনাবা মোছা: আয়েশা সিদ্দিকা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানের সমন্বয় করেন নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মো: আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ (মনি)।
সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্য রক্ষা:

হারিয়ে যাওয়া গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় দেখতে আসা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। মাঠের চারপাশে ছিল ছোট ছোট শিশুদের মেলা আর নানা পেশার মানুষের কোলাহল। বিশেষ করে তরুণ ও যুব সমাজকে মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ করার এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সুধীজন।
আজকের শালহাটির ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড়
তিনটি গ্রুপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই:
প্রতিযোগিতাটি তিনটি গ্রুপে (এ, বি এবং সি) পরিচালনা করা হয়।
‘এ’ গ্রুপে: ডোমারের বানিয়া মিয়ার ঘোড়া (চালক কাফা বানিয়া) প্রথম স্থান অধিকার করে। দ্বিতীয় হয়েছেন হরিণচড়ার বাবু ডাক্তার।
‘বি’ গ্রুপে: প্রথম স্থান ছিনিয়ে নেন সৈয়দপুরের আকরাম আলীর ঘোড়া (চালক সিরাজুল ইসলাম)। দ্বিতীয় হন নীলফামারীর বাবু ডাক্তার।
‘সি’ গ্রুপে: দর্শকদের তাক লাগিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন নারী সওয়ার সোনিয়া রানী। তার অসাধারণ নৈপুণ্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। এই গ্রুপে দ্বিতীয় হন ডোমার উপজেলার বাবু ডাক্তার।
প্রধান শিক্ষকের বিশেষ বক্তব্য:
অনুষ্ঠানে অন্যতম বররেণ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, জনাব মো: রেজাউল ইসলাম (প্রধান শিক্ষক, শালহাটী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়)। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “ঘোড়দৌড় আমাদের প্রাচীন বাংলার সংস্কৃতির অংশ। আজকের এই যান্ত্রিক যুগেও আমাদের ঐতিহ্য যে কতটা প্রাণবন্ত, তা এই মানুষের উপস্থিতিই বলে দেয়। যুব সমাজকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে এবং শেকড়ের টানে ফিরিয়ে আনতে এমন আয়োজন প্রতি বছর হওয়া প্রয়োজন। পশ্চিম সাতজান মাস্টারপাড়া যুব ক্লাবের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী:
প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন। ডোমার থেকে আসা বানিয়া মিয়া, হরিণচড়ার বাবু ডাক্তার এবং সৈয়দপুরের আকরাম আলীর মতো প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি একটি আঞ্চলিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।কিন্তু আয়োজনের মধ্যে লটারি মোবাইল ফোন ছাড় মোবাইল ফোন, টেলিভিশন আকর্ষণীয় লটারি ড্র ও পুরস্কার ততখানি সময় ঘোষণা করা হয় নাই। পরবর্তীতে লটারি ড্র করা হবে বলে জানিয়েছেন কমিটি বিন্দু।
মাগরিবের নামাজের পূর্ব মুহূর্ত সময় সভাপতির বক্তব্যে অনুষ্ঠানটি শেষ করা হয়।
অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ক্লাবের সভাপতি জনাব মো: তাজুল ইসলাম এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জনাবা মোছা: লাভলী বেগম (মুসা)।
মাগরিবের নামাজের ওয়াক্তে আজকের আয়োজনটি মুখরিত পরিবেশে শেষ করা হয়।