তারাগঞ্জে ডালিয়া সেচ প্রকল্পের মেঠোপথে ৪০০ তালবীজ রোপণ: ছায়াশূন্য মাঠে স্বস্তির উদ্যোগ
আব্দুল হালিম, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
”তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে…”— কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর কবিতার এই চরণগুলো যেন বাস্তব রূপ পেল রংপুর জেলার তারাগঞ্জে।
তারাগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে চলা ডালিয়া সেচ প্রকল্পের দু’পাশের সবুজ ফসলি মাঠে ভর-দুপুরে একটু ছায়ার তীব্র অভাববোধ করতেন কৃষক, কৃষাণী ও রাখাল ছেলেরা। সেই কষ্ট লাঘব এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সেচ প্রকল্পের বারোঘরিপাড়া থেকে কাজীপাড়ার মধ্যবর্তী ৫০০ মিটার মেঠোপথের দুই পাশে একযোগে ৪০০টি তালবীজ রোপণ করা হয়েছে।
ব্যতিক্রমধর্মী এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে ‘বন্ধন’ নামক স্থানীয় সামাজিক সংগঠন। সংগঠনের প্রধান জনাব মোঃ নাসিম হাসানের সার্বিক নির্দেশনা ও নেতৃত্বে ৩০ জন শিশু-কিশোরের মাধ্যমে এই তালবীজগুলো রোপণ করা হয়। এতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের সদস্য আলামিন, মাহাবুব, শামসুলসহ অনেকে। স্থানীয় নারী-পুরুষও এই সামাজিক উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বেচ্ছায় কাজ করেন।
কর্মসূচি চলাকালে সামাজিক সংগঠন বন্ধনের প্রধান জনাব মোঃ নাসিম হাসান উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে পরিবেশ রক্ষা, বজ্রপাত প্রতিরোধ ও অর্থনৈতিক সুবিধায় তালগাছের ভূমিকা তুলে ধরেন এবং বীজগুলোর সঠিক যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান।
উদ্যোক্তারা জানান, বীজ রোপণের পূর্বে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গুণগত মানসম্পন্ন সতেজ ও নিরোগ তালবীজ সংগ্রহ করা হয়। দুই সপ্তাহ ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে ছত্রাকনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে বীজগুলো প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরবর্তীতে ৩ মিটার দূরত্বে গর্ত খুঁড়ে বীজ রোপণ শেষে হালকা পানি সেচ ও কচুরিপানার মালচিং দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ ধন্যবাদ ও তথ্য অবদান:
উল্লেখ্য, পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের তথ্যাদি তুলে ধরতে বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করেন করছেন ডিমলা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান।
তাঁর বস্তুনিষ্ঠ ভিডিও ধারণ, সূক্ষ্ম তথ্য সংগ্রহ এবং সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে আন্তরিক সহযোগিতার ফলেই এই উদ্যোগের সংবাদচিত্র তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে। তাঁর এই নিষ্ঠাপূর্ণ উদ্যোগ ও সহযোগিতার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হচ্ছে।