পঞ্চগড়ে চা বোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে অংশীজনদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে
মোঃনয়ন আলী
পঞ্চগড় জেলাপ্রতিনিধি
গতকাল ৭(ডিসেম্বর) উত্তরাঞ্চলের চা শিল্পকে টেকসই ও মানসম্মত করতে পঞ্চগড়ে চা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোঃ মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ (এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি) এর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ চা বোর্ড আঞ্চলিক কার্যালয়ের কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় পঞ্চগড়ের চা কারখানা মালিক সমিতি, চা বাগান মালিক সমিতি, চা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের অংশীজন উপস্থিত ছিলেন। উত্তরাঞ্চলের ক্রমবর্ধমান চা উৎপাদন, বাজার ব্যবস্থাপনা, মান নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়।
জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ চা বোর্ডের যৌথ নেতৃত্বে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ
১। মানহীন সবুজ চা পাতা কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মানহীন পাতা বিক্রি বা ক্রয়ে জড়িত উভয়কেই আইনের আওতায় আনা হবে।
২। চা পাতায় পানি দেওয়া যাবে না। এ ধরনের অপরাধ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩। অনুমোদনের বাইরে কোনো বেআইনি উৎপাদন করলে সংশ্লিষ্ট কারখানা আইনের আওতায় আসবে।
৪। কারখানা স্থাপন ও পরিচালনায় লাইসেন্স প্রদানে কঠোরতা ও যাচাই-বাছাই আরও জোরদার করা হবে।
৫। সব চা চাষিকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। নিবন্ধিত চাষি ছাড়া চা পাতা কেনা যাবে না।
৬। উৎপাদিত সব চা নির্ধারিত ওয়ারহাউজে পাঠিয়ে নিলাম ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।
৭। কারখানা থেকে চা নির্ধারিত সময়ে বাজারে ছাড়তে হবে, সময়সীমা লঙ্ঘন করা যাবে না।
৮। প্রয়োজন হলে প্রশাসনের কাছে চা উৎপাদন ও কারখানা থেকে চা বের হওয়ার ভিডিও ফুটেজ সরবরাহ করতে হবে।
৯। প্রতিটি কারখানাকে বাংলাদেশ চা বোর্ডে দৈনিক উৎপাদন রিপোর্ট পাঠাতে হবে।
১০। কুরিয়ার সার্ভিসকে চা পরিবহনের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক।
১১। পঞ্চগড়ে চা বাগানের সম্প্রসারণে প্রতি বছর ২.৫% হারে বাগান বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে।
১২। পুরাতন চাষিদের পুনরায় চা বাগান স্থাপনে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনে প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব তৈরি করতে হবে।
১৩। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সবুজ চা পাতা বেচাকেনা চলবে। এরপর কেনাবেচা করলে তা বিধি বহির্ভূত গণ্য হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৪। এসব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ চা বোর্ড, জেলা প্রশাসন পঞ্চগড়, চা কারখানা মালিক সমিতি, চা বাগান মালিক সমিতি ও চা ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে।
সভায় বক্তারা বলেন, পঞ্চগড়ের চা শিল্পের মান, বাজার প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সকল অংশীজনকে কঠোরভাবে আইন মেনে চলতে হবে। তারা আরও জানান, জেলার চা শিল্পকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও মানসম্পন্ন করতে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।