নীলফামারীর চড়াইখোলায় মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত
নীলফামারী প্রতিনিধি, নীলফামারী | ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মাদকের কুপোশাদ ও ভয়াবহতা সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করা, তরুণ প্রজন্মকে সুপথে রাখা এবং একটি নিরাপদ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত এলাকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নীলফামারীতে এক বৃহৎ সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ চড়াইখলা চৌধুরীপাড়া ও মুন্সিপাড়া শান্তি-শৃঙ্খলা সংঘের যৌথ উদ্যোগে চড়াইখোলা বসুনিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে এলাকার বিপুলসংখ্যক অভিভাবক, যুবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
সমাবেশে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও পুলিশের স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি ও সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বক্তাদের বক্তব্য ও মূল আহ্বান:
অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সোয়েম (বিজ্ঞ জিপি, নীলফামারী জেলা জজ কোর্ট):
আইনগত দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধসিয়ে দেয়। মাদকের সাথে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন যেমন কঠোর, তেমনি যুবসমাজকে রক্ষা করতে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।”
ড. খায়রুল আনাম (বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ):
শিক্ষাবিদ হিসেবে তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “মাদক একটি জাতির মেধা ও বিবেককে পঙ্গু করে দেয়। তরুণ সমাজকে পড়ালেখা, খেলাধুলা ও গঠনমূলক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবেই মাদকের অভিশাপ তাদের স্পর্শ করতে না পারে।”
অ্যাডভোকেট কাজী আক্তারুজ্জামান জুয়েল (আইনজীবী, জেলা জজ কোর্ট):
তিনি পারিবারিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে—প্রতিটি বাবা-মাকে সেই খবর রাখতে হবে। পারিবারিক নজরদারিই মাদক থেকে সন্তানকে রক্ষা করার প্রথম ও প্রধান ঢাল।”
ভুপতি কুমার বর্মন (পরিদর্শক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নীলফামারী):
মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মাদক বিক্রি বা সেবনের সাথে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে শুধু প্রশাসনিক অভিযান দিয়ে মাদক পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, এজন্য স্থানীয় জনগণকে তথ্য দিয়ে ও সামাজিকভাবে সহযোগিতা করতে হবে।”
দেওয়ান শাহিন আলম (তদন্ত কর্মকর্তা, নীলফামারী সদর থানা):
তিনি বলেন, “মাদকের সরবরাহ ও ব্যবহার বন্ধে পুলিশ প্রশাসন সর্বাত্মক তৎপর রয়েছে। চড়াইখোলা এলাকাকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করতে থানা পুলিশ স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলা সংঘের পাশে থাকবে।”
এসআই মনির হোসেন (বিট পুলিশ অফিসার, নীলফামারী সদর থানা):
বিট পুলিশের কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “এলাকায় মাদক সংক্রান্ত কোনো অসামাজিক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লেই তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানান। আমরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করেন শাকিল হাসান চৌধুরী এবং রবিউল হোসাইন সুজন।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে চড়াইখলা চৌধুরীপাড়া ও মুন্সিপাড়ার শান্তি-শৃঙ্খলা সংঘের নেতৃবৃন্দ ঘোষণা দেন, এলাকা থেকে চিরতরে মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের সামাজিক প্রতিরোধ কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।