ঢাকা-গোপালগঞ্জ ট্রেনের ভাড়া ১৪৫ টাকা নির্ধারিত করায় সাধারণ মানুষের স্বস্তি
লুৎফর সিকদার (গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি )
ঢাকা-গোপালগঞ্জ ট্রেনের ভাড়া ১৪৫ নির্ধারিত করায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জীবনে স্বস্তি। সড়ক পরিবহনের অতিরিক্ত ভাড়ার বিপরীতে রেল হতে পারে সাধারণ মানুষের স্বস্তির যাত্রা!
ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পথ। এই দীর্ঘ যাত্রায় পদ্মা সেতুর টোলসহ রেলভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১৪৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে গড়ে মাত্র ১ টাকা। বর্তমান সময়ে এই ভাড়া নিঃসন্দেহে সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত সাশ্রয়ী। একটু চিন্তা করলে বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যাবে। প্রত্যন্ত বা গ্রামাঞ্চলেও সাধারণ ভ্যান কিংবা স্থানীয় কোনো যানবাহনে প্রতি কিলোমিটার ১ টাকা হিসেবে যাতায়াত করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। অথচ এখানে আধুনিক রেলপথ, পদ্মা সেতু, সেতুর টোল এবং দেশের আধুনিক এলিভেটেড রেলপথ ব্যবহার করে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত মাত্র ১৪৫ টাকায় যাতায়াতের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছেন, এটি নিঃসন্দেহে রেলযাত্রীদের জন্য বড় একটি সুবিধা।
অনেকে বলেন, স্টেশনে আসতে আলাদা খরচ আছে, আবার স্টেশন থেকে বাড়ি যেতেও আলাদা যানবাহনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাসে যাতায়াত করলেও একই বিষয় প্রযোজ্য। বাস তো যাত্রীর বাড়ির সামনে গিয়ে নামিয়ে দেয় না। বাস কাউন্টারে যেতে যেমন আলাদা যানবাহনের প্রয়োজন হয়, তেমনি গন্তব্যে পৌঁছানোর পর বাস থেকে নেমে বাড়ি পর্যন্ত যেতেও অন্য কোনো যানবাহন ব্যবহার করতে হয়। তাই এই যুক্তিতে ট্রেনের ভাড়াকে ব্যয়বহুল বলা যুক্তিসঙ্গত নয়।
অন্যদিকে ঢাকা–গোপালগঞ্জ সড়কপথের ভাড়ার দিকে তাকালেও পার্থক্যটি স্পষ্ট। BRTA এর দূরত্বভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী সাধারণ বাসের ভাড়া প্রায় ৩২৪ টাকা হলেও বাস্তবে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানি ও বাস মালিকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ফলে যাত্রীকে সব সময় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও বেশি অর্থ গুনতে হয়। সেখানে একই রুটে পদ্মা সেতুর টোলসহ ট্রেনে মাত্র ১৪৫ টাকায় যাতায়াতের সুযোগ সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রেল কর্তৃপক্ষের শুধু ভাড়ার বিষয় নয়, নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। ভাঙ্গা-গোপালগঞ্জ পযন্ত সড়কপথে যে বেহাল দশা আর নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। অন্যদিকে রেল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ গণপরিবহন হওয়ায় পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে ভ্রমণের জন্য ট্রেনকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতেই পারে।
বর্তমানে অভিযাত্রী কমিউটার ট্রেনের সময়সূচিতে কিছুটা বিলম্ব দেখা যাচ্ছে এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে মনে রাখতে হবে, এই রুটটি সম্পূর্ণ নতুন। নতুন রুটে পর্যাপ্ত জনবল, অপারেশনাল ব্যবস্থাপনা ও ক্রসিং পরিকল্পনা পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে কিছুটা সময় লাগতেই পারে। বিশেষ করে অন্যান্য আন্তঃনগর ট্রেনের সঙ্গে ক্রসিংয়ের কারণে সাময়িকভাবে বিলম্ব হচ্ছে। আশা করা যায়, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং অপারেশনাল ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগঠিত হলে এই সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে কমে আসবে।
শিডিউল বিপর্যয়ের বিষয়টি শুধু রেলের ক্ষেত্রে নয় বাংলাদেশের প্রায় সব ধরনের গণপরিবহনেই কমবেশি বিলম্বের ঘটনা ঘটে। তবে রেলের সময়সূচি আমরা তুলনামূলকভাবে বেশি পর্যবেক্ষণ ও হিসাব করি বলে এর বিলম্ব আমাদের কাছে বেশি দৃশ্যমান হয়। তাই সাময়িক কিছু সমস্যার কারণে নতুন এই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সামগ্রিক সুবিধাকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে প্রতি কিলোমিটার মাত্র ১ টাকা এই রেলভাড়া সাধারণ মানুষের জন্য সত্যিই একটি বড় সুযোগ। অতিরিক্ত ভাড়া, পরিবহন সিন্ডিকেট ও সড়কপথের নানা ভোগান্তির বিপরীতে রেল হতে পারে একটি সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আধুনিক বিকল্প।
সাময়িক ভাবে সমস্যাগুলোকে গঠনমূলকভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি রেলভ্রমণকে উৎসাহিত করি। যাত্রীসংখ্যা বাড়লে এই রুটের গুরুত্বও বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত সেবা, প্রয়োজনীয় জনবল ও উন্নত সময়সূচি নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হবেন।
গোপালগঞ্জে বাস সিন্ডিকেটের অতিরিক্ত ভাড়ার কাছে জিম্মি না হয়ে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যাত্রার জন্য রেলকে প্রাধান্য দেন। ঢাকা-গোপালগঞ্জ রেল যোগাযোগকে সফল করতে আমাদের প্রত্যেকেরই ভূমিকা রয়েছে।