জ্বালানি তেলের রাতারাতি বাড়তি মুনাফার লোভ, প্রতিবাদ করায় ফিলিং স্টেশন মালিকের রডের আঘাতে রক্তাক্ত গ্রাহক!
জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকার নির্ধারিত বাড়তি দামে জ্বালানি তেল বেচে রাতারাতি পকেট ভারী করার বেআইনি চক্রান্ত! আর সেই কৃত্রিম সংকটের প্রতিবাদ করায় মিলল লোহার রডের নির্মম আঘাত। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ‘মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টার’-এ পাম্প মালিকের হামলায় এক কেমিস্টসহ দুইজন রক্তভেজা শরীরে হাসপাতালে ঠাঁই নিয়েছেন।
রোববার গভীর রাতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকে এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।
যা ঘটেছিল সেই রাতে
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকরের সরকারি ঘোষণার পর থেকেই ডিমলার ওই ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন জমে যায়। নিয়ম অনুযায়ী রাত ১২টার পর নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু রাত সাড়ে ১০টা বাজতেই পাম্প বন্ধ করে সটকে পড়েন কর্মচারীরা। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও বন্ধ করে দেওয়া হয় ডিজিটাল লাইন।
মূল উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—রাত ১২টা পর্যন্ত গ্রাহকদের আটকে রেখে বর্ধিত মূল্যে তেল বেচে পকেট ভারী করা।
প্রতিবাদের মাশুল: রডের আঘাত
ঠিক রাত ১২টা বাজতেই পাম্প মালিক শাহ আলম চালকের আসনে বসে মেশিনে নতুন বর্ধিত দর বসাতে শুরু করেন। টানা দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা যখন আগের দামে তেল দেওয়ার দাবি জানান, তখনই ঘটে বিপত্তি। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পাম্প মালিক শাহ আলম ক্যাশ কাউন্টার থেকে ভারী লোহার রড এনে গ্রাহকদের ওপর ঝাপিয়ে পড়েন।
তার অতর্কিত হামলায় কেমিস্ট আব্দুল কাদের ও গ্রাহক মাহবুবুর রহমান (২৭) রক্তাক্ত হন। গুরুতর আহত মাহবুবুরকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও পাম্প সিলগালা
ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ডিমলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ডিমলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী জানান, “অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফিলিং সেন্টারটির সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।”
মালিকের সাফাই
তবে প্রতিবাদের মুখে পিছু হটে নিজের ওপর দায় নিতে নারাজ পাম্প মালিক শাহ আলম। তার দাবি—বিদ্যুৎ সংযোগে ত্রুটির কারণেই তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। এমনকি কর্মচারীদের ওপরই আগে হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি পাল্টা দাবি করেন। তার কাছে বর্তমানে পূর্বের দামে কেনা ১০ হাজার ৪৯৭ লিটার পেট্রোল, ১০ হাজার ৩৮০ লিটার অকটেন এবং প্রায় ১১ হাজার লিটার ডিজেল মজুদ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি খাতের এই অরাজকতা ও নিরীহ গ্রাহকের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।