গাছ লাগিয়ে দেশ সাজাতে অনন্য উদ্যোগ: রংপুরে আনসার ও ভিডিপির ৬০০ তালবীজ রোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন
আব্দুল হালিম জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
”গাছ লাগিয়ে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” —এই সুনির্দিষ্ট প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে, আজ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি: তারিখ, সোমবার, রংপুরে এক ভিন্নধর্মী ও সুপরিকল্পিত তালবীজ রোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পেশাদারিত্ব, উন্নয়ন দক্ষতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য নজির স্থাপন করে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়, রংপুর সদর, রংপুরের উদ্যোগে রংপুর-লালমনিরহাট মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী সংযোগ সড়কের উভয় পাশে একযোগে ৬০০টি তালবীজ রোপন করা হয়। এই কর্মসূচির সার্বিক নির্দেশনা ও সরাসরি নেতৃত্ব প্রদান করেন রংপুর সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা জনাব মো: নাসিম হাসান।
কর্মসূচিটি সফল করতে উপজেলা প্রশিক্ষক জনাব মো: নুরুজ্জামান শাহিন এবং উপজেলা প্রশিক্ষিকা জনাব জান্নাত আরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও সার্বিক সহযোগিতা করেন। তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ২০০ জন ভাতাভোগী ও ভিডিপি সদস্য অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এবং দক্ষতার সাথে তালবীজগুলো রোপণ করেন।
রংপুর সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা জনাব মো: নাসিম হাসান তার বক্তৃতায় তালগাছের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “তালগাছ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে বজ্রপাত রোধে অত্যন্ত কার্যকর। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি এই গাছ দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সুবিধাও প্রদান করে।” তিনি উপস্থিত এলাকাবাসীকে রোপণকৃত তালগাছগুলোর যথাযথ যত্ন নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
এই কর্মসূচির একটি বিশেষ দিক ছিল বীজ নির্বাচনের বৈজ্ঞানিক ও সুপরিকল্পিত পদ্ধতি। আনসার ও ভিডিপির প্রশিক্ষিত সদস্যরা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে উন্নত ও সুস্থ মাতৃগাছ শনাক্ত করে সতেজ ও নিরোগ তালবীজ সংগ্রহ করেন। বীজ সংগ্রহের পর দুই সপ্তাহ ছায়াযুক্ত স্থানে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করা হয়। এই সময় বীজগুলোকে পানিতে ঔষধ মিশিয়ে সম্পূর্ণরূপে ছত্রাকমুক্ত করা হয়। বীজ সংরক্ষণের দুই সপ্তাহ পর, অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে নির্ধারিত ০৩ মিটার দূরত্বে (৩০×৩০×৩০) সেন্টিমিটার আয়তনের গর্ত তৈরি করে বীজগুলো রোপণ করা হয়। রোপণের পরপরই হালকা পানি সেচ দিয়ে এবং কচুরিপানার মালচিং ব্যবহার করে বীজের আর্দ্রতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, যা বাহিনীর দক্ষতার এক সুস্পষ্ট প্রমাণ।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই সুপরিকল্পিত ও ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে। বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা দেখে স্থানীয় অনেক নারী ও পুরুষ অনুপ্রাণিত হয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এই তালবীজ রোপণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। এই কর্মসূচি শুধু তালগাছ রোপণই নয়, বরং জনসাধারণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাহিনীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও দক্ষতা প্রদর্শনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
সংবাদ কৃতজ্ঞতা: মোঃ মনিরুজ্জামান, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক, ডিমলা, নীলফামারী।
“এ বিষয়ে তিনি জানান, ‘রংপুর সদরের এই উদ্যোগ আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা ও দক্ষতারই বহিঃপ্রকাশ। মাঠপর্যায়ে কাজের এমন সমন্বয় বাহিনীর কাজের মান আরও বাড়িয়ে তুলছে।'”
প্রতিবেদন: আব্দুল হালিম, জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী।