লোহাগাড়ায় মাদ্রাসা শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, টাকার চাপ ও হুমকির অভিযোগ
নুরুল আমিন লোহাগাড়া( চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আলুর ঘাট রোড এলাকায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে চাপ ও হুমকির জেরে এই মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, আলুর ঘাট রোডের টিএনটি ভবনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত নিশান ভবনের ৫ম তলায় তালিমুল আসসুন্নাহ মাদ্রাসার একটি কক্ষ থেকে ওই শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে সেখানে পরিবারসহ বসবাস করতেন।
নিহতের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়। তিনি ছালে আহমদের পুত্র। তার স্ত্রী শিরিন আক্তার কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
মৃত ব্যক্তির স্ত্রী শিরিন আক্তার জানান, শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতনের কিছু টাকা তার স্বামীর কাছে জমা ছিল, যা পরবর্তীতে খরচ হয়ে যায়। টাকার সঠিক পরিমাণ তিনি নিশ্চিত করতে না পারলেও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা প্রায় ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১২ এপ্রিল (রবিবার) রাতে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির তিন সদস্য—মহিউদ্দিন, কাশেম ও নুরুল হক ডাক্তার—তার স্বামীকে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেন। সকাল ১০টার মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে মারধর ও পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এমন কি ভবনের ছাদে নিয়ে মারার ও হুমকি দিয়েছন বলেও তিনি দাবি করেন।
শিরিন আক্তার আরও জানান, একপর্যায়ে তাকে ও তার স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বাইরে থেকে তালা দেওয়া হয় এবং তার স্বামীর মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়। এতে তার স্বামী চরম মানসিক চাপ ও ভয়ের মধ্যে ছিলেন এবং আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাননি।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য মহিউদ্দিন বলেন, মৃত শিক্ষক মাদ্রাসার প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ করেছেন এবং সেই টাকা দিয়ে মোবাইল জুয়া খেলেছেন। তিনি বলেন, “মাদ্রাসার টাকা খরচ করায় চাপ দেওয়া হয়েছে, যা স্বাভাবিক।”
এদিকে ১৩ এপ্রিল (সোমবার) সকালে খবর পেয়ে লোহাগাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।