লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক: মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া এক ব্যস্ত জনপথ এবং ফোর লেন বাস্তবায়নের জোরালো দাবী
মিনহাজুল হক বাপ্পি লালমনিরহাট থেকে
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম যোগাযোগ মাধ্যম লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক এখন পরিণত হয়েছে এক স্থায়ী মৃত্যুফাঁদে। দীর্ঘদিনের চরম অবহেলা এবং সংস্কারের অভাবে সড়কটির বেহাল দশা সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বিশেষ করে জেলার আদিতমারী, কালীগঞ্জ থেকে হাতীবান্ধা পর্যন্ত দীর্ঘ অংশজুড়ে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্যস্ত এই মহাসড়কের মূল পিচঢালাই পাকা রাস্তার বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত। পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বহু জায়গায় ভেতরের ইটের সুরকি বেরিয়ে এসেছে। সড়কের দুই পাশের অংশ মারাত্মকভাবে ভেঙে ধসে পড়ায় এর প্রশস্ততা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই মাঝরাস্তার বড় গর্তগুলোতে পানি জমে একাকার হয়ে যায়, যা দূর থেকে বোঝার উপায় থাকে না।
বিপরীত দিক থেকে আসা কোনো গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে সড়কের ভাঙা অংশে চাকা পড়ে প্রতিনিয়ত বিকল হচ্ছে পাথর ও কয়লাবোঝাই ভারী পণ্যবাহী ট্রাক। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।
বুড়িমারী স্থলবন্দর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার। এই রুট দিয়ে প্রতিদিন ভারত, ভুটান ও নেপাল থেকে হাজার হাজার টন পাথর, কয়লা এবং বিভিন্ন পণ্য বোঝাই শত শত ট্রাক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে।
কিন্তু দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই আন্তর্জাতিক করিডোরটির এমন করুণ দশা থাকলে তা জাতীয় অর্থনীতিকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। দেশজুড়ে এত মেগা প্রজেক্ট ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটির প্রতি সংশ্লিষ্টদের এমন উদাসীনতা প্রশ্নবিদ্ধ।
মানুষের অমূল্য জানমাল রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নিরবচ্ছিন্ন রাখতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কটিকে অবিলম্বে চার লেন /ফোর লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের সবচেয়ে জোরালো দাবি।
জরুরি ভিত্তিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী চালক সমাজ।