নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত হলো কিশোরকন্ঠ মেধাবৃত্তি ২০২৫ এর সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
নীলফামারী প্রতিবেদক, নীলফামারী | ১১ এপ্রিল, ২০২৬
নীলফামারীর শিল্পকলা একাডেমি আজ রূপ নিয়েছিল এক টুকরো চাঁদের হাটে। জেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত এই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম আয়োজিত ‘কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি-২০২৫’-এর সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।
কিশোরকন্ঠ পাঠক ফোরাম নীলফামারীর উপদেষ্টা সোহাগের পরিচালনায়
কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম নীলফামারী শহর শাখার চেয়ারম্যানের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। নীলফামারী ও সৈয়দপুর জেলার কয়েকশ’ কৃতি শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবক এই আয়োজনে অংশ নেন। প্রতিটি শিক্ষার্থীর চোখে-মুখে ছিল আগামীর স্বপ্ন আর সাফল্যের আভা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় চেয়ারম্যান মুজাহিদুল ফয়সাল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “মেধা কেবল নম্বরপত্রে নয়, মেধা প্রকাশ পায় উন্নত চরিত্র আর দেশপ্রেমের মাধ্যমে।”
প্রধান আলোচক হিসেবে বিশেষ পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা রাখেন কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী উপদেষ্টা হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “কিশোরকণ্ঠ শুধু একটি সাময়িকী নয়, এটি একটি জীবন গড়ার পাঠশালা। আজকের এই মেধাবীরাই আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দেবে।”
অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বর্ণাঢ্য সব পুরস্কার। পুরস্কারের তালিকায় ছিল
সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট
শিক্ষাসামগ্রী ও উন্নত মানের স্কুল ব্যাগ
নগদ অর্থ বৃত্তি
পুরস্কার নিতে আসা এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার সন্তান যখন মঞ্চে উঠে পুরস্কার নিচ্ছিল, তখন মনে হলো আমাদের কষ্ট সার্থক হয়েছে। কিশোরকণ্ঠ এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে যা শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীল হতে সাহায্য করে। আমরা তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।”
আরেকজন অভিভাবক বলেন, “বর্তমানে কিশোরদের সঠিক পথে রাখতে কিশোরকণ্ঠের মতো নৈতিকতা ও মেধাভিত্তিক আয়োজনের বিকল্প নেই।”
পুরস্কার হাতে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা শিক্ষার্থীরাও তাদের মনের কথা ভাগ করে নেয়।
নীলফামারী থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত এক শিক্ষার্থী তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলে, “আজকের এই দিনটি আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শুধুমাত্র মেধার স্বীকৃতি পাওয়াই বড় কথা নয়, অতিথিদের দিকনির্দেশনামূলক কথাগুলো আমাকে ভবিষ্যতে আরও বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে। এই ক্রেস্ট আর সার্টিফিকেট আমাকে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে সাহস যোগাবে।”
সৈয়দপুর থেকে আগত অন্য এক কৃতী শিক্ষার্থী জানায়, “কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষাটি আমাদের জন্য নিজেদের যাচাই করার দারুণ একটি সুযোগ ছিল। আজ স্কুল ব্যাগ এবং নগদ অর্থ পুরস্কার হিসেবে পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার জন্য কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামকে অনেক ধন্যবাদ।”
দিনব্যাপী এই উৎসবমুখর আয়োজনে উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরা শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনায় নানা দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। নীলফামারীর এই আয়োজন প্রমাণ করে দিল—সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে মফস্বলের মেধাবীরাও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে পারে।
একটি সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায়, কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম কাজ করে যাচ্ছে নিরন্তর।