বিএনপিতে যোগ দিয়েও পার পেলেন না নীলফামারীর সেই চেয়ারম্যান, গ্রেপ্তার
নীলফামারী প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করেও শেষ রক্ষা হলো না নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান
হেদায়েত আলী শাহ ফকিরের। কৃষক লীগের পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া এই নেতার শেষ ঠিকানা হলো কারাগার। মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হেদায়েত আলী সদর উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আভাস পেয়ে সম্প্রতি তিনি বিএনপিতে ভেড়েন। পুলিশ জানায়, তিনি একাধিক হত্যা ও নাশকতার মামলার পলাতক আসামি ছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ইটাখোলা গ্রামের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযোগের পাহাড়
স্থানীয় ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, হেদায়েত আলী সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে গুরুতর নানা অভিযোগ রয়েছে:
ভোট জালিয়াতি: ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রকাশ্যে বিরোধী দলীয় এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে নৌকা প্রতীকে সিল মারার অভিযোগ।
রামগঞ্জ ট্র্যাজেডি: ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নীলফামারী সদরের রামগঞ্জ বাজার এলাকায় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সহযোগী হিসেবে এজাহারে তার নাম রয়েছে।
অর্থ আত্মসাৎ: চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া।
ছাত্র-জনতার ওপর হামলা: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ।
বিএনপিতে যোগদানের নেপথ্য
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর হেদায়েত আলীর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হতে থাকে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে তিনি জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও গ্রেপ্তারে ভূমিকা রেখেছিলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি সম্প্রতি বিএনপিতে যোগদানের চেষ্টা চালান।
পুলিশ যা বলছে
সদর থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, হেদায়েত আলীর বিরুদ্ধে হত্যা ও নাশকতাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। জিজ্ঞাসাবাদে অন্য আসামিদের বিষয়ে তথ্য নেওয়া হচ্ছে।”