সুন্দরগঞ্জে ফের কুকুরের কামড়ে আহত ৪ শিশু, বাড়ছে উদ্বেগ
মোঃ মহিবুল্লাহ মেহেদী, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আবারও কুকুরের কামড়ে চার শিশু আহত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা গ্রামের ক্লিনিকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একের পর এক কুকুর ও শিয়ালের আক্রমণে শিশু, নারী ও পুরুষ আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।
আহত শিশুরা হলো তালুক বেলকা গ্রামের কামরুজ্জামান মিয়ার দেড় বছর বয়সী মেয়ে সারাহ আক্তার, আতাউর রহমানের দুই বছর বয়সী মেয়ে মানহা আক্তার, মাসুদ মিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে হোসাইন মিয়া এবং মোনারুল ইসলামের সাত বছর বয়সী ছেলে তামিম মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে একটি কুকুর হঠাৎ শিশুদের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে চার শিশু আহত হয়। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে আহত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, শিশু সারাহ আক্তারের বাম হাত, চোখের নিচে ও বুকে কামড়ের ক্ষত রয়েছে। মানহা আক্তারের বুকে, হোসাইন মিয়ার বাম হাতে এবং তামিম মিয়ার ডান হাতে কামড়ের ক্ষত হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, “কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসা সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা করা হচ্ছে না।”
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে একটি কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আটজন আহত হন। ওই ঘটনায় দুটি গরু ও চারটি ছাগলও কুকুরটির আক্রমণের শিকার হয়। পরে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলেন।
এ ছাড়া গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ী ও তালুক বেলকা গ্রামে একটি শিয়াল লোকালয়ে ঢুকে পথচারী ও বাড়ির আশপাশে থাকা মানুষের ওপর হামলা চালায়। এতে শিশু, নারী ও পুরুষসহ অন্তত নয়জন আহত হন। পরে এলাকাবাসী শিয়ালটিকেও মেরে ফেলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই দুই ঘটনায় কুকুর ও শিয়ালের আক্রমণে আহত মোট ১৭ জন চিকিৎসা নেন। ঘটনাগুলো পর্যালোচনা ও আক্রান্তদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে স্বাস্থ্য বিভাগও তৎপরতা চালায়।
এদিকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ছয়জন এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) দুজন গবেষক সুন্দরগঞ্জে আসেন। তাঁরা আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।
নয়জনকে কামড়ানো শিয়ালটির শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর শিয়ালটির মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারে পাঠায়। পরে পরীক্ষায় শিয়ালটির শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বারবার কুকুর ও শিয়ালের আক্রমণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকেরা চিন্তিত। এ পরিস্থিতিতে আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বেওয়ারিশ কুকুর ও বন্য প্রাণীর আক্রমণ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।