প্রবাসী স্বামীর তালাকের নোটিশ ঘিরে বিতর্ক, কাজীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালের অভিযোগ
মোঃ মহিবুল্লাহ মেহেদী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নে প্রবাসী স্বামীর তালাকের নোটিশকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নোটিশে স্বামীর স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কাজী আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ তুলেছেন স্ত্রী মোছাঃ রেখা বেগম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাজী দাবি করেছেন, স্বামী দেশে এসে তাঁর উপস্থিতিতে স্বাক্ষর করে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।
অভিযোগকারী রেখা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ বছর আগে তাঁদের দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। সংসারের আর্থিক সংকট কাটিয়ে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে স্বামী মোঃ মিজানুর রহমানকে বিদেশে পাঠান তিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে স্বামী দেশে ফিরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে আবারও বিদেশে চলে যান বলে অভিযোগ করেন রেখা বেগম।
এ অবস্থায় সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এরই মধ্যে সম্প্রতি তাঁর কাছে তালাকের নোটিশ পৌঁছায়। নোটিশে থাকা স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে রেখা বেগমের অভিযোগ, স্বামী বর্তমানে বিদেশে থাকায় তাঁর পক্ষে স্বাক্ষর করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি কাজী আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন।
রেখা বেগম বলেন, “বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছি। এত কষ্ট করার পরও তালাকের নোটিশ পেয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
এদিকে, তালাকের নোটিশের সত্যতা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন কাজী আব্দুল হাইয়ের কাছে জানতে চান বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এ সময় তাঁকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে এক যুবক তাঁকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। নোটিশের সত্যতা নিশ্চিত করতে কাজী চার দিন সময় নিয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাজী আব্দুল হাই। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। মিজানুর রহমান বিদেশ থেকে দেশে এসেছিলেন। তিনি আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্বাক্ষর দিয়ে তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।”
এ বিষয়ে তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু বলেন, কাজী তাঁকে একটি তালাকের কাগজ পাঠিয়েছেন। ওই নোটিশে একই সঙ্গে তিন তালাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ ছাড়া, এর আগে কাজী আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুর প্রায় দুই বছর পর এক ব্যক্তির নামে বিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগও উঠেছিল বলে জানা গেছে। তবে ওই অভিযোগের তদন্ত কিংবা আইনগত পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রেখা বেগম নিজাম খাঁ গ্রামের মোঃ তসলিম উদ্দিনের মেয়ে। তাঁর স্বামী মোঃ মিজানুর রহমান খোঁদ্দা গ্রামের সাহেব উদ্দিনের ছেলে। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।

তালাকের নোটিশের মূল কপি, সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন নথি এবং স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করা হলে এ ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।