বান্দরবানের লামায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগে দিশেহারা সাধারণ মানুষ….
মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক
ক্রাইম রিপোর্টার
বান্দরবান প্রতিনিধি
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান জেলার লামা উপজেলাধীন ২নং সদর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মোজাম্মেল হকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকাশ্যে বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত নিরীহ মানুষকে মারধর, যানবাহন ভাঙচুরের ভয় দেখানো ও নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গরু চোর হিসেবে পরিচিত হাকিম নামের এক ব্যক্তির কথার ভিত্তিতে এলাকার কয়েকজন নির্দোষ যুবককে হয়রানি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মোজাম্মেল হক হাকিমকে ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক কয়েকজন যুবকের নাম স্বীকার করান। এতে মোঃ হান্নান, মোঃ সাকিবসহ মোট তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়।
হাকিম অভিযোগ করে বলেন,
“আমি কোনোভাবেই ওই তিনজনের সঙ্গে জড়িত নই। চুরির সাথেও তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাকে জোর করে তাদের নাম বলতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় বিচার দিয়েছি এবং থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”
এ বিষয়ে আবু বক্কর নামের এক ব্যক্তি বলেন, মোজাম্মেল দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে হয়রানি করে আসছেন। এর আগেও একাধিক যুবক তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একপর্যায়ে ডকুমেন্ট প্রমাণ দিতে না পারায় সামাজিকভাবে তাকে সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে কাউকে হয়রানি না করার মর্মে তার কাছ থেকে স্ট্যাম্প নেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি নিজেকে যুবদলের সভাপতি দাবি করে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে লামা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজমুল বলেন,
“সাকিব ও মোজাম্মেলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।”
মোজাম্মেলের রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।
তবে অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক দলীয় ক্ষমতা ব্যবহারের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে নিজেকে লামা উপজেলা বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করেন।
এদিকে ভুক্তভোগী সাকিব বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে মোজাম্মেল আমাকে নানা ভাবে হয়রানি করে আসছে। এ বিষয়ে আমি লামা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”