September 15, 2026, 7:25 am
শিরোনাম :

নীলফামারীতে চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয় সদস্য ‘ভাইরাল মামুন’ আটক

শহিদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার নিলফামারী

নীলফামারীতে চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয় সদস্য ‘ভাইরাল মামুন’ আটক

মো: শহিদুল ইসলাম প্রতিনিধি, নীলফামারীঃ

নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে একটি চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন, মামুন শেখ ওরফে জঙ্গী মামুন ওরফে ভাইরাল মামুন (২৫)। তিনি সদর উপজেলার ইটাখোলা মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জানুয়ারি বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে জেলার সদর উপজেলার পৌরসভার বড় মাঠের পূর্ব পাশে এক দম্পতির ওপর চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী তাপস রায় (২২) তার স্ত্রী আশা রায় (১৯) এর সঙ্গে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় মামুনসহ কয়েকজন তাদের ঘিরে ধরে অবৈধভাবে আটক করে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাপস রায়কে মারধর করে এবং সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে। পরে তার স্ত্রী বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাকে যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। একপর্যায়ে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে দম্পতিকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। দিনের আলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন ঘটনার কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নীলফামারীর পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর থানা পুলিশকে দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে এসআই (নিঃ) রাসেল শেখের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ধারাবাহিক তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের অংশ হিসেবে গত ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে সদর উপজেলার চড়াইখোলা বটতলী বাজার সংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, এর আগেও তার নেতৃত্বে চক্রটি বড় মাঠ এলাকায় দর্শনার্থীদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে নীলফামারী সদর থানায় মামলা নং-৪২ (তারিখ: ৩০/০১/২০২৬) রুজু করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪১/৩৮৫/৩৮৬/৩২৩/৫০৬/৩৪ ধারা ছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী) এর ১০ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ২৫(১) ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা