বান্দরবানের রুমায় সরকারি খাদ্যবান্ধব চাল আত্মসাতের অভিযোগ — ডিলারের অপসারণ দাবি স্থানীয়দের
ক্রাইম রিপোর্টার: মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, বান্দরবান
বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রেমাক্রি ইউনিয়নের সরকারি ডিলার জন ত্রিপুরার বিরুদ্ধে। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের চাল আত্মসাৎ করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ডিলার জন ত্রিপুরা সরকার নির্ধারিত নিয়ম-কানুন অমান্য করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাল নিজের কাছে রেখে দেন এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বঞ্চিত করেন। চাল বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তিনি স্থানীয়দের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, এমনকি মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকিও দেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক অভিযুক্ত ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে, তিনি সংবাদকর্মীকেও হুমকি প্রদান করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি তালিকাভুক্ত বহু দরিদ্র পরিবার দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচ্ছেন না। অথচ রেকর্ড অনুযায়ী প্রতি মাসে ডিলার জন ত্রিপুরা বান্দরবান জেলা খাদ্য গুদাম থেকে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করছেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন— পাইয়া মুরুং, মং চাং মুরুং, সাক ওয়াক মুরুং, রিং লত মুরুং, সিং চং মুরুং, রেংলে ম্রো, আমাং খুমী, কাংকিং মুরুং, লাইফা মুরুং, মং ওয়াই মুরুং, রেথী মুরুং, রেং লৃং মুরুং, মেনরত মুরুং, থকেহ খুমীসহ আরও অনেকে।
এছাড়া আমলৌ পাড়ার বাসিন্দা পিয়ার সাং বম, বান রাম ময়, বেম খুপ, নল খুব, জুয়াম নিয়ার, বেনেদিক, ভেংলিয়ান, সমহই পি ও পিয়ার কিল রা সহ স্থানীয়রা ডিলার জন ত্রিপুরার অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-বিরোধী অভিযানের সময় প্রায় ১০টি গ্রাম জনশূন্য হয়ে গেলেও, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের নামে চাল বরাদ্দ দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
রেমাক্রি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগটি গুরুতর। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জাদিপাই, থিংদলতে, থাইখ্যাং, দার্জিলিং, সুন সং, লুয়াং মোয়াল, সা লৌপি, পাই নুয়াম ও হ্লাচিং পাড়ার শতাধিক পরিবার গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেন— “সরকারি সাহায্য পেতে আমাদের কষ্ট করতে হচ্ছে, অথচ চাল চলে যাচ্ছে ডিলারের গুদামে।”
এ বিষয়ে রুমা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
📍 স্থানীয়দের একটাই দাবি — জন ত্রিপুরার অপসারণ ও জবাবদিহিমূলক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।