September 10, 2026, 3:16 pm
শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ বিদ্যালয়ের ১৪ টি ফ্যান চুরি ডিমলায় দুর্যোগকবলিত মানুষের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ চুরি আতঙ্কে অস্থির রায়গঞ্জের জনগণ হিন্দু যুবকের প্রেমের টানে কুড়িগ্রামের মুসলিম তরুণী নাটোরের সিংড়ায় মহাসমারোহে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের মাহফিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গোপালগঞ্জ টু ঢাকা ট্রেন সার্ভিসের সময় পরিবর্তনের দাবি নীলফামারীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ গোপালগঞ্জে জাতীয় মৎস্য শুভ উদ্বোধন আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ চিরিরবন্দরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে পোনা মাছ অবমুক্ত, র‍্যালি ও আলোচনা সভা

পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রঝনঝনানি: শান্তির গন্তব্য কোথায়?

ক্রাইম রিপোর্টার — মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, বান্দরবান

পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রঝনঝনানি: শান্তির গন্তব্য কোথায়?
ক্রাইম রিপোর্টার — মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, বান্দরবান
বান্দরবান, ১১ অক্টোবর ২০২৫
তিন পার্বত্য জেলায় দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাতে লিপ্ত দুই সশস্ত্র সংগঠন — ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। তবে জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এলে ওই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নতুন করে সৌহাদ্র ও আসন ভাগাভাগির ধাঁচ দেখা যাচ্ছে; খাগড়াছড়ি জেলা ইউপিডিএফের দখলে রাখা হতে পারে, আর রাঙামাটি ও বান্দরবান অঞ্চলগুলোতে জেএসএসের প্রভাব বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও নিরাপত্তা মহলের খবরে বলা হয়, রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে এসব সমঝোতা যাচাইয়ের পথে এগোচ্ছে; অনেকে এটিকে নির্বাচনকালীন অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের প্রয়াস হিসেবে দেখলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন—এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নেতিবাচক হতে পারে।
পাহাড়ের সাধারণ মানুষ হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “যতক্ষণ এসব গোষ্ঠী অস্ত্র হাতে রাখবে ততক্ষণ আমাদের শান্তি পাওয়া কঠিন।” বহু গ্রামেই অনিশ্চয়তা, চাঁদাবাজি ও সীমিত আন্দোলন স্বাধীনতার ভীতি জনজীবন প্রভাবিত করছে। এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “আমরা চাই—সরকার বলবেন, অস্ত্র রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে বছরের পর বছর শান্তি ফিরে আসবে না।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এবং কিছু গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউপিডিএফ ও জেএসএসের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতার পেছনে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা থাকার দাবি করা হচ্ছে। এই দাবিটি, ওই সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে, ভারতের কোনো প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার নাম উল্লেখ করে করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই সম্পন্ন হয়নি—সরকারি কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার দ্বারা তা নিশ্চিত করা হয়নি।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ প্রেক্ষাপটকে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, “বহু বাহ্যিক ও আভ্যন্তরিক প্রভাব থাকলে পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যাগুলো জটিলরূপ ধারণ করতে পারে; কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।”
অপরদিকে, এলাকার রাজনৈতিক নেতারা ও জেলা প্রশাসন জানান—কোনো প্রকার গোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে বৈধতা দেয়ার আগে তাদের কর্মকাণ্ড এবং অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট প্রমাণ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা চাই শান্তি প্রতিষ্ঠা—কিন্তু তা যদি অস্ত্র নিঃশর্তভাবে রেখে রাজনীতি করা হয়, তাহলে সেটি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করবে।”
স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আপত্তি সত্ত্বেও নির্বাচনশৈলীর পরিবর্তন এবং ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে পার্টি এবং আঞ্চলিক গঠনগুলো যে কৌশল অবলম্বন করবে, সেটাই আসল চাবিকাঠি—তবে তা যদি অস্ত্র সরে না আসে, তাহলে সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে না বলে সচেতন শ্রেণি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা