বগুড়া–সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্পে নতুন গতি
মোঃ সিমান্ত তালুকদার
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ।
আগামী বছর দৃশ্যমান হবে নির্মাণকাজ, অর্থায়নে আগ্রহ চীনের এআইআইবি
উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য এসেছে দারুণ সুখবর। বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে আগামী বছর থেকেই দৃশ্যমান হবে নির্মাণকাজ—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
বগুড়া–শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন (সিরাজগঞ্জ) পর্যন্ত এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের আওতায় এমব্যাংকমেন্টসহ ৮৬.৫০ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ মেইন লাইন এবং ৩৭ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ লুপ ও ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে রেলপথে বগুড়ার দূরত্ব প্রায় ১১২ কিলোমিটার কমে যাবে, ফলে কয়েক ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে।
ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় বেড়েছে
উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রথমে ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। তবে চূড়ান্ত সমীক্ষা শেষে জমির পরিমাণ কমে ৯০১.৭৭ একর হলেও অধিগ্রহণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা—যা আগের তুলনায় ৩২৩ কোটি টাকা বেশি।
অর্থায়নে পরিবর্তন
প্রথমদিকে ভারত সরকারের লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হলেও ঋণের অর্থছাড় না হওয়ায় চলতি বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় অর্থায়ন বাতিল করে। বর্তমানে নতুন অর্থায়নকারীর সন্ধানে থাকা এই প্রকল্পে চীনের এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (AIIB) অর্থায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মোট ব্যয় সাড়ে ৮ হাজার কোটি থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। ভারতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত নকশা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী প্রকল্প ব্যয় প্রায় ১০ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা হতে পারে। ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি ও ২০২৫ সালের হালনাগাদ দরের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পের মেয়াদ
প্রথমে প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। পরে তা বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন এবং সর্বশেষ দ্বিতীয় দফায় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
বাইপাস লাইন ও স্টেশন উন্নয়ন
এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে রাণীরহাট থেকে কাহালু পর্যন্ত একটি বাইপাস লাইন নির্মাণ এবং কাহালু স্টেশন পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে সান্তাহার দিক থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন বগুড়া শহরকে বাইপাস করে সরাসরি সিরাজগঞ্জ জংশন হয়ে ঢাকার পথে চলাচল করতে পারবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বগুড়া–সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শিল্প, বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন কর্মযজ্ঞের সূচনা হবে।