October 26, 2026, 8:18 pm
শিরোনাম :
দুপুরেও বিদ্যালয়ে নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী! কারন দর্শানোর নোটিশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বান্দরবানের লামায় পৃথক বজ্রপাতে মাদ্রাসাছাত্র ও স্কুলের দপ্তরির মৃত্যু প্রবাসী স্বামীর তালাকের নোটিশ ঘিরে বিতর্ক, কাজীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালের অভিযোগ সুন্দরগঞ্জে ফের কুকুরের কামড়ে আহত ৪ শিশু, বাড়ছে উদ্বেগ চরকিং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় খন্দকার সোহেল গোপালগঞ্জে চক্ষু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীর চোখ নষ্টের অভিযোগ, সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনালাপ ঘিরে বিতর্ক তজুমদ্দিনে সোনাপুর ইউপির চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় শাহিন শাজী জলঢাকায় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মমতাজুল ইসলাম মিঠুর জন্মদিন পালিত ভোলা জেলা পুলিশের সেপ্টেম্বর-২০২৬ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত নীলফামারীর ডিমলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা অজয় কুমার সিংহ রায়কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার

স্বেচ্ছায় মানুষের পাশে থাকলেও আজ তুফানের পাশে কেউ নেই

আবু মোহাম্মদ. রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ )

প্রয়োজন সহায়তা: রায়গঞ্জে স্বেচ্ছায় মানুষের পাশে থাকলেও আজ তুফানের পাশে কেউ নেই

আবু মোহাম্মদ. রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ )

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কালিঞ্জা এলাকার বাসিন্দা তুফান। ষাটোর্ধ্ব বয়সে এসে স্ত্রীকে নিয়ে জীর্ণ একটি কুঁড়েঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। সংসারে তাঁরা দুজনই। বয়সের ভারে তুফান যেমন এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না, তাঁর স্ত্রীও কোনো কাজ করার সামর্থ্য হারিয়েছেন।

তুফান কখনো পেশাগতভাবে গ্রাম পুলিশ ছিলেন না। তবে নিজের টাকায় গ্রাম পুলিশের পোশাক তৈরি করে স্বেচ্ছায় বিভিন্ন খেলাধুলা, সামাজিক অনুষ্ঠান ও স্থানীয় আয়োজনে ছুটে বেড়াতেন। মানুষের আনন্দ-অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করতেন, শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করতেন। কেউ খুশি হয়ে কিছু অর্থ দিলে সেটিই ছিল তাঁর সামান্য আয়।

সেই সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হতো। সঞ্চয় করার সুযোগ হয়নি। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন নিয়মিত কাজ করে আয় করার সামর্থ্য নেই। সন্তানও নেই। ফলে স্ত্রীকে নিয়েই কোনো রকমে দিন পার করছেন তিনি।

তাঁদের থাকার ঘরটির অবস্থাও করুণ। জীর্ণ ঘরের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। ভালো পোশাক কিংবা পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করাও তাঁদের জন্য কঠিন। ঈদ কিংবা উৎসব এলেও অভাবের কারণে আনন্দের ছোঁয়া তেমন একটা লাগে না তাঁদের জীবনে।

একসময় নিজের সামর্থ্য দিয়ে অন্যের আনন্দের আয়োজনে স্বেচ্ছায় ছুটে বেড়ানো তুফান এখন নিজেই অসহায়। নীরবে কষ্টে দিন কাটালেও তাঁর দুর্দশার কথা অনেকেরই জানা নেই। তাই প্রয়োজনের সময়ও তেমন কোনো মানবিক সহায়তা পাননি তিনি।

তুফানের চাওয়া খুব বেশি নয়। জীবনের শেষ দিনগুলোতে স্ত্রীকে নিয়ে যেন দুবেলা পেট ভরে খেতে পারেন এবং বৃষ্টির রাতে যেন ঘরের ভেতর পানি না পড়ে—এটুকুই তাঁর প্রত্যাশা।

অসহায় এই দম্পতির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খাদ্যসামগ্রী, পোশাক, ঘর মেরামত কিংবা আর্থিক সহায়তা পেলে তাঁদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

তুফান ও তাঁর স্ত্রীর অসহায় জীবনের কথা ছড়িয়ে দিতে প্রতিবেদনটি শেয়ার করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একটি শেয়ার হয়তো কোনো মানবিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নজরে এনে দিতে পারে তাঁদের জীবনে সহায়তার হাত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা