September 20, 2026, 9:16 pm
শিরোনাম :
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী বিতরণ করা হয় ডিমলায় আনসার-ভিডিপির ১০ দিনের প্রশিক্ষণে চতুর্থ দিনে দুর্যোগ মোকাবিলা প্রশিক্ষণ গোলমুন্ডার হলদি বাড়িতে জমি নিয়ে বিরোধ : সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭ জন আহত নেত্রকোনা জেলার দুর্গম থানা খালিয়াজুড়ি তে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি “লামা প্রেস ক্লাবের নবগঠিত কমিটির সংবাদ (সম্মেলন) বাউফল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডে আলহাজ্ব মোঃ আবুল কাশেমের গণসংযোগ সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স সৈয়দপুর মেট্রোর উদ্যোগে ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও মাইন্ডসেট প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত। কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত দৈনিক মানব বার্তার প্রতিনিধি মহিবুল্লাহ মেহেদী, রোগমুক্তি কামনায় দোয়া প্রার্থনা সাংবাদিকদের ‘ফ্যাসিস্টের দোসর বললেন বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা ফুটবল ম্যাচে পক্ষপাতের অভিযোগ, খেলোয়াড়দের মারধরের হুমকি

গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব

লুৎফর সিকদার , গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব: জিম্মি সেবাগ্রহীতারা।

লুৎফর সিকদার , গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসটি যেন এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির এক অনভিপ্রেত আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সেখানে ঘুষ বা অনৈতিক লেনদেন ছাড়া মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সরকারি সেবা। অধিকন্তু, অধিকার সচেতন কোনো সেবাগ্রহীতা যদি অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করতে যান, তবে তাঁর কপালে জোটে চূড়ান্ত দুর্ব্যবহার ও নাজেহাল। ফলে জরুরি এই সেবা পেতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই দালাল চক্রের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
সোজা পথে ভোগান্তি, ঘুষের চুক্তিতে মেলে মুক্তি
সাধারণ নিয়ম ও সরকারি নির্দেশিকা মেনে সঠিক কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র জমা দিতে গেলে গ্রাহকদের পোহাতে হচ্ছে অশেষ ভোগান্তি। দিনের পর দিন ঘুরেও আবেদনপত্র জমা দিতে পারছেন না তারা। অথচ নেপথ্যে গোপন আর্থিক চুক্তি করলেই অলৌকিকভাবে সব বাধা দূর হয়ে যাচ্ছে! দালালদের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন করলেই অল্প সময়ের মধ্যে আবেদন জমা হয়ে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে পাসপোর্টের ডেলিভারি স্লিপ। গোপালগঞ্জ জেলা জুড়ে পাসপোর্ট অফিসের এই ওপেন সিক্রেট দুর্নীতি নিয়ে চরম ক্ষোভ ও সমালোচনা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথাই নেই। উল্টো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি— সাধারণ মানুষের এটি নাকি ‘স্বভাবগত অভ্যাস’; ভালো কাজ করলেও কিছু মানুষ নাকি অপপ্রচার চালায়!
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ ও দালাল-সিন্ডিকেটের কৌশল
অফিসের এই সিন্ডিকেটের শিকার হওয়া উৎপল মৃধা, সিমলা রানী বিশ্বাস, প্রবীর বিশ্বাস রাজু, অবনি বিশ্বাস ও করুনা রানী বিশ্বাস তাঁদের চরম অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সমস্ত সঠিক নিয়ম মেনে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যুক্ত করে পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু দিনের পর দিন ঘুরেও তা জমা দিতে পারিনি; সামান্য কিছু ভুল ধরে বারবার আবেদনপত্রটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে দালালের মাধ্যমে টাকা দিয়ে জমা দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই ডেলিভারি স্লিপ হাতে পেয়েছি। এটি সরাসরি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট! প্রথমে তারা নিজেরা নিয়ম মাফিক আবেদন বাতিল করবে, আর পরে তাদেরই নির্ধারিত দালালদের মাধ্যমে উৎকোচ বা ঘুষ দিয়ে জমা দিলে সেটি সঠিক বলে বিবেচিত হবে।”
সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কে?
গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের একটি গোপন বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি ও অনিয়মের মূল কলকাঠি নাড়ছেন উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পাল। তাঁর ছায়াতলেই নাকি দালালদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই গোপন লেনদেনের নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে।
দায় এড়িয়ে গেলেন সহকারী পরিচালক
অফিসের ভেতরের এমন গুরুতর সব অভিযোগের ব্যাপারে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ-এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি সরাসরি এড়িয়ে যান। ফোন টি কোনো সদুত্তর না দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের কাছে আমি কোনো বক্তব্য প্রদান করতে পারব না।”
পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের এই অপতৎপরতায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা