জলঢাকায় ফুয়েল কার্ড প্রাপ্তি আরও সহজ: শর্ত শিথিল করল উপজেলা প্রশাসন
ইউএনও’র মানবিক ও আন্তরিক পদক্ষেপে জনমনে স্বস্তি
আবদুল হালিম, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
জলঢাকা (নীলফামারী): নীলফামারীর জলঢাকায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহন মালিকদের ভোগান্তি লাঘবে জ্বালানি তেলের ‘ফুয়েল কার্ড’ প্রাপ্তির শর্তাবলী শিথিল করেছে উপজেলা প্রশাসন।
এখন থেকে গাড়ির মূল কাগজপত্রের পাশাপাশি শোরুমের রশিদ বা লার্নার কপি দিয়েও কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে।
প্রশাসনের নতুন নির্দেশনা:
সম্প্রতি জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব মোঃ জাহিদ ইমরুল মোজাক্কিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ইতিপূর্বে ফুয়েল কার্ডের জন্য গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ট্যাক্স টোকেন থাকা বাধ্যতামূলক ছিল।
কিন্তু সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে এই কঠোর শর্তগুলো বর্তমানে শিথিল করা হয়েছে।
শিথিলযোগ্য শর্তসমূহ:
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যাদের কাছে গাড়ির চূড়ান্ত রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেই, তারা গাড়ি ক্রয়ের শোরুমের রশিদ জমা দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া যাদের মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, তারা লার্নার লাইসেন্সের অনলাইন কপি দিয়েও ফুয়েল কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
ইউএনও’র বক্তব্য ও সাংবাদিকের অভিজ্ঞতা:
বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্যারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমার ফোন কলটি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন এবং ব্যস্ততার মাঝেও অত্যন্ত অমায়িক ও চমৎকার ব্যবহারে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।
তিনি জানান, “ফুয়েল কার্ড প্রদান কার্যক্রম আরও সহজতর করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গাড়ি কেনার রশিদ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলেই যে কেউ এখন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
তবে মনে রাখতে হবে, ফুয়েল কার্ড ব্যতীত কোনো গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না।”
জনমনে স্বস্তি ও সাধুবাদ:
প্রশাসনের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে লার্নার লাইসেন্সধারী এবং নতুন গাড়ি কেনা চালকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিনের জটিলতার কারণে কার্ড পাচ্ছিলেন না, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। ইউএনও জনাব মোঃ জাহিদ ইমরুল মোজাক্কিন স্যারের এই জনবান্ধব পদক্ষেপ এবং তাঁর পেশাদারিত্বের পাশাপাশি অমায়িক ব্যবহারের প্রশংসা এখন জলঢাকার সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে জোরালোভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এবং এই পদক্ষেপটি সারা বাংলাদেশে চালু করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।