লোহাগাড়ার বড়হাতিয়ায় ৫০তম জবলে সিরাত মাহফিল সম্পন্ন, ঐতিহ্যের পেছনে বলিখেলার ইতিহাস
নুরুল আমিন লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া এলাকায় ঐতিহ্যবাহী ৫০তম জবলে সিরাত মাহফিল দুই দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) শুরু হওয়া এই মাহফিল ২৫ এপ্রিল (শনিবার) গভীর রাতে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। মাহফিলকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় এক অনন্য ধর্মীয় আবহ ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
মাহফিলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত খ্যাতনামা ওলামায়ে কেরাম মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ, মানবকল্যাণ ও ইসলামের সুমহান শিক্ষার ওপর গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন। বক্তারা সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় সিরাত অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এতে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে মাহফিল প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই জবলে সিরাত মাহফিলের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। একসময় এ স্থানটি “ছিদ্দিক মিয়ার বলিখেলা” নামে পরিচিত ছিল। প্রবীণদের ভাষ্যমতে, এখানে নিয়মিত বলিখেলা ও গরুর লড়াই অনুষ্ঠিত হতো, যা এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।
জানা যায়, ১৯৭৬ সালে ছিদ্দিক মিয়া ইন্তেকাল করেন। তার জানাজার নামাজ স্থানীয় মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। ওই জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বায়তুশ শরফের তৎকালীন পীর সাহেব হযরত মাওলানা আব্দুল জব্বার সাহেব (রহ.)। তিনি ছিদ্দিক মিয়ার সন্তানদের কোরআন ও হাদিসের আলোকে বুঝিয়ে দেন যে বলিখেলা ও গরুর লড়াই কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না এবং পরবর্তীতে এসব আয়োজন বন্ধ রাখার জন্য তাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নেন।
তারই নির্দেশনায় বলিখেলা ও গরুর লড়াইয়ের পরিবর্তে ১৯৭৭ থকেছ “জবলে সিরাত মাহফিল”-এর সূচনা হয়। একটি উঁচু পাহাড়ের ওপর এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ায় আরবি “জবল” (পাহাড়) শব্দ থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে। সেই থেকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এই মাহফিল আয়োজন করা হচ্ছে, যা এখন এলাকার অন্যতম ধর্মীয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
অত্র মাহফিলে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করে থাকেন বায়তুশ শরফের বর্তমান পীর সাহেব হযরত আল্লামা আলহাজ্ব জনাব মাওলানা আব্দুল হাই নাদবী। তার উপস্থিতি মাহফিলের গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি করে বলে আয়োজকরা জানান।
মাহফিল সফলভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজক কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রশংসিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, ভবিষ্যতেও এই জবলে সিরাত মাহফিল ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিকতা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।