সৈয়দপুরে অসহায় গৃহবধূর বাড়ি দখল ও লুটপাটের অভিযোগ: এক বিরুদ্ধে মামলা
জেলা প্রতিনিধি, শহিদুল ইসলাম নীলফামারী
০২ এপ্রিল ২০২৬
সৈয়দপুর (নীলফামারী): নীলফামারীর সৈয়দপুরে শবনম বেগম নামে এক অসহায় গৃহবধূকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় হোসেন গুড্ডুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সামনে সাহেবপাড়া ক্যান্টিন এলাকায় একটি বাড়িতে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ভাড়া থাকছেন শবনম বেগম। সম্প্রতি স্থানীয় হোসেন গুড্ডু ওই জায়গাটি রেলওয়ের দাবি করে তাকে এবং পাশের আরেকটি পরিবারকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।
গত সোমবার বিকেলে হোসেন গুড্ডুর নেতৃত্বে শাহাবুল ইসলাম, আজাদ ও নাদিম রেজাসহ একদল লোক শবনম বেগমের বাসায় চড়াও হন। তারা তাকে তাৎক্ষণিক বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। এতে গৃহবধূ আপত্তি জানালে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ঘরের আসবাবপত্র রাস্তায় ফেলে দিয়ে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয় দখলকারীরা। এ সময় ঘরে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা লুটে নেওয়া হয়েছে বলেও ভুক্তভোগী দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শবনম বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন
”আমি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে এখানে ভাড়া থাকি। হুট করে এসে আমাকে মারধর করে বের করে দিল। এখন আমার থাকার কোনো জায়গা নেই, আমি এর বিচার চাই।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঘটনাটি সবার সামনে ঘটলেও অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ এগিয়ে আসতে সাহস পাননি।
অভিযুক্ত ও রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য,
অভিযুক্ত হোসেন গুড্ডু অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, “বাড়ির মালিক জায়গাটি বিক্রি করে দিয়েছেন। সেই নিয়ম অনুযায়ী ভাড়াটিয়াকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার বলেন, “আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো অন্যায় বা দখলদারিত্বে জড়ালে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম জানান, রেলওয়ের সরকারি জায়গায় কোনো অবৈধ স্থাপনা বা দখলদারিত্বের সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা গণমাধ্যমকে বলেন,
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন।
আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে রয়েছে এবং স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।