September 10, 2026, 2:39 pm
শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ বিদ্যালয়ের ১৪ টি ফ্যান চুরি ডিমলায় দুর্যোগকবলিত মানুষের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ চুরি আতঙ্কে অস্থির রায়গঞ্জের জনগণ হিন্দু যুবকের প্রেমের টানে কুড়িগ্রামের মুসলিম তরুণী নাটোরের সিংড়ায় মহাসমারোহে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের মাহফিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গোপালগঞ্জ টু ঢাকা ট্রেন সার্ভিসের সময় পরিবর্তনের দাবি নীলফামারীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ গোপালগঞ্জে জাতীয় মৎস্য শুভ উদ্বোধন আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ চিরিরবন্দরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে পোনা মাছ অবমুক্ত, র‍্যালি ও আলোচনা সভা

জলঢাকায় তেলের জন্য হাহাকার: ইউএনও’র হস্তক্ষেপে শান্ত হলো পরিস্থিতি, পাম্পে মিলল মাত্র ১৫০ লিটার তেল

​আবদুল হালিম, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

জলঢাকায় তেলের জন্য হাহাকার: ইউএনও’র হস্তক্ষেপে শান্ত হলো পরিস্থিতি, পাম্পে মিলল মাত্র ১৫০ লিটার তেল

​আবদুল হালিম, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মেসার্স হামিদা ফিলিং স্টেশনে (বাহাদুর দরগা) তেলের জন্য সৃষ্টি হয়েছে এক নজিরবিহীন ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। ২৮শে মার্চ ২০২৬, শনিবার সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তেল সরবরাহের খবর ছড়িয়ে পড়লে ডিমলা, ডোমার, কিশোরগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী প্রায় ১০-১২টি এলাকা থেকে হাজার হাজার মোটরসাইকেল আরোহী পাম্পে ভিড় জমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নিজে উপস্থিত হয়ে সাধারণ মানুষকে শান্ত করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাম্প চত্বরে তেলের জন্য হাজার হাজার মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ভিড় সামলাতে পাম্প কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন হিমশিম খাচ্ছে। নিরাপত্তার খাতিরে নজেল বহনকারীকে অফিস কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন পুলিশ ফোর্স সাংবাদিক সহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তালা খুলে দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তিনি নিজে পাম্পের মজুত যাচাই করে প্রায় ১৫০ লিটার তেল পান, যা মূলত অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবার জন্য রাখা হয়েছিল।

ইউএনও মহোদয় নিজে পাম্পের ডিপু ও তেলের মজুত পরীক্ষা করেন। তদন্ত শেষে দেখা যায়, পাম্পে মাত্র ১৫০ লিটারের মতো সীমিত তেল অবশিষ্ট আছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, এই তেলটুকু মূলত জরুরি সেবা যেমন—অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, ডাক্তার এবং সাংবাদিকদের যাতায়াতের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

তদন্ত শেষে উপস্থিত হাজারো মানুষের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন ইউএনও জনাব,মোঃ জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন। তিনি বলেন, “জরুরি যানের জন্য কিছু তেল মজুত রাখা আবশ্যক। তিনি বলেন, যদি আমার গাড়িতে তেল না থাকতো, তবে আমি দ্রুত এখানে পৌঁছাতে পারতাম না।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “পাম্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভোগান্তি আপনাদেরই বাড়বে। পাম্প মালিকের ব্যবসা বন্ধ হলেও তার ক্ষতি সীমিত, কিন্তু আপনারা তেলের সংকটে পড়বেন।” তদন্তে কোনো অনিয়ম না পাওয়ায় তিনি পাম্প কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং অবশিষ্ট সীমিত তেল ১০০ টাকার করে লাইনের সামনের দিকের চালকদের মাঝে বিতরণের নির্দেশ দেন। একইসাথে খোলা বোতলে তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেন।
তার বক্তব্যে, এলাকাবাসী ও পাম কর্তৃপক্ষ উভয়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন ।

হামিদা ফিলিং স্টেশনটি জলঢাকা-ডিমলা-ডোমার মূল সড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। আশেপাশে অন্য কোনো পাম্প না থাকায় এবং সঠিক মাপ ও ঐতিহ্যের কারণে ঢাকা অভিমুখী যানবাহনসহ স্থানীয় কয়েক হাজার গ্রাহক এই পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। এদিকে ডিমলা, সুটিবাড়ী, ঠাকুরগঞ্জ, ডালিয়া, জাপানি, ডোমার, বোড়াগাড়ী, চিলাহাটি, মিরগঞ্জ ও খেরকাঠি সহ নানান জায়গা থেকে আসা চালকরা দীর্ঘ ৩-৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ২০০ টাকার তেল সংগ্রহ করেছেন।
বিশৃঙ্খলার চাপে অনেকের গাড়ির হেডলাইট ও ইন্ডিকেটর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তেল পাওয়ার আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো।তেল না পাওয়া অনেকেই
অনেকে বোতলের তেল বন্ধ হাওয়া সহ সিন্ডিকেটের দাবি তুলেছেন।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখেও মেসার্স হামিদা ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনভর অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তপ্ত রোদে হাজারো মানুষের চাপ সামলে তেলের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে তারা যে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও আগত চালকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা