April 17, 2026, 6:09 pm
শিরোনাম :
কবিরহাটে ১৪ বছরের কিশোরের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার রায়গঞ্জে শ্যালো মেশিন চুরি, পুলিশি অভিযানে উদ্ধার—আটক ২ লোহাগড়ায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট: অচল জনজীবন, চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ নুরুল আমি নিঝুম দ্বীপে বিএনপির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন পাটগ্রাম উপজেলায় জ্বালানি তেল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ লামার মাতামুহুরী নদীর সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে পর্যটক নিখোঁজ, মরদেহ উদ্ধার চিরিরবন্দরে ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ যুবক আটক চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রস্তাব অনুমোদন নীলফামারী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে উদ্বোধন হলো বাস সার্ভিস রায়গঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পিরোজপুরে বিশেষ অভিযানে চিহ্নিত আসামী গ্রেফতার, এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস

​শাহিন ফকির পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরে বিশেষ অভিযানে চিহ্নিত আসামী গ্রেফতার, এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সুদক্ষ তত্ত্বাবধান ও কৌশলগত দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বহুল আলোচিত ও চিহ্নিত আসামি মো. বাদশা শিকদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পিরোজপুর সদর থানার চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা এসআই তাপস কুমার মন্ডল, যিনি সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ সফলভাবে অভিযানটি সম্পন্ন করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে দায়েরকৃত পিরোজপুর সদর থানার মামলা নং-৯ এর তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিকদারমল্লিক ইউনিয়নের বড় জুজখোলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘ পরিকল্পনা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে অবশেষে গ্রেফতার করা হয় কুখ্যাত আসামি বাদশা শিকদারকে।

গ্রেফতারকৃত আসামি সাংবাদিক মাইনুল ইসলামের ওপর হত্যাচেষ্টা, মারধর এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর মামলার এক নম্বর আসামি হিসেবে চিহ্নিত। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে জিআর ২৫২/২০২৫ নম্বরসহ একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে লুটপাট, মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, ছিনতাই এবং সড়কে চাঁদাবাজির মতো বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালালেও বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ ও সুপারিশের কারণে তা সম্ভব হচ্ছিল না। বিশেষ করে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে, যা আইন প্রয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল।

তবে বর্তমান ওসির বিচক্ষণতা, কঠোর অবস্থান এবং আইনের প্রতি অনড় মনোভাবের ফলে অবশেষে এই চিহ্নিত আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী এসআই তাপস কুমার মন্ডলের সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

গ্রেফতারের সময় ছিনতাই মামলার ভিকটিম লিজা আক্তার এবং প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী জাকারিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে আসামিকে শনাক্ত করেন এবং নিশ্চিত করেন যে, উক্ত আসামি ঘটনার সময় সরাসরি জড়িত ছিলেন।

পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং পুরো অপরাধচক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট সকল আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্কের কারণ হিসেবে পরিচিত বাদশা শিকদার সিন্ডিকেটের অন্যতম সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাকি আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অপরাধ দমনে তাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা