রায়গঞ্জে ফুলজোড় নদী দূষণ বন্ধে মানববন্ধন, বিষাক্ত বর্জ্য নিক্ষেপ বন্ধ ও দায়ীদের শাস্তির দাবি
মোঃ সিমান্ত তালুকদার
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ।
ফুলজোড় নদী দূষণে পরিবেশ বিপর্যয়: মাছের গণমৃত্যু, দূষণ বন্ধ ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে রায়গঞ্জে মানববন্ধন
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে ফুলজোড় নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হওয়ায় পরিবেশ ও জনজীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নদীতে প্রতিনিয়ত মৃত মাছ ভেসে উঠছে, পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। এ পরিস্থিতির প্রতিবাদে দূষণ বন্ধ ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার ধানগড়া সেন্টার পয়েন্ট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশপ্রেমী নাগরিক সমাজের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যবসায়ী, জেলে সম্প্রদায়, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিল্পকারখানা থেকে কেমিক্যালযুক্ত বিষাক্ত বর্জ্য পাইপলাইনের মাধ্যমে ফুলজোড় নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে নদীর পানি দূষিত হয়ে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে। নদীর পানির রং পরিবর্তিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মানুষ ও গবাদিপশুর জন্য পানি ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বক্তারা আরও বলেন, ধানগড়া, মহেশপুর ও চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদীর পানি ব্যবহার করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। একসময় দেশীয় মাছের সমৃদ্ধ উৎস ফুলজোড় নদী এখন জীববৈচিত্র্য হারানোর পথে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রায়গঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. হাতেম আলী সুজন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাইফুল্লাহ ইবনে সাঈদ সজল। বক্তব্য দেন শহীদ এম মুনছুর আলী মেডিকেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. কেএইচ মুরাদ, রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মুক্তাদির, ভূমিহীন সমিতির নেতা আবু হাসেম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের নেতা দীপক কুমার কর, মৎস্যচাষী আতাউর রহমান খান, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির হোসেন ও শামীম খন্দকারসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, নদী দূষণের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়গঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, উজানের কয়েকটি শিল্পকারখানার বর্জ্যের কারণে মাছ ও জলজ প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।