গোপালগঞ্জ নির্বাচন অফিসে সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানির অভিযোগ।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি জসিম মুন্সী (গোপালগঞ্জ)
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কারি, যাচাইকারী ও শনাক্তকারী স্বাক্ষর থাকা সত্ত্বেও হালনাগাদ ভোটার হওয়া একাধিক ভোটারদের ডেকে নিয়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আটকিয়ে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও টাকা দাবি ও অন্যান্য কাজে সেবা প্রত্যাশীদের নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারীর মাধ্যমে ভোটার হওয়ার জন্য আমরা বোড়াশী ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বরত তথ্য সংগ্রহকারি, যাচাইকারী ও শনাক্তকারী কাছে, অনলাইন জন্ম সনদ, পিতা মাতার আইডি কার্ড, বিদ্যুৎ বিল, নাগরিক সনদ সও সব দলিলাদি জমা দি এবং ০৪-০৩-২০২৫ তারিখে হালনাগাদে ভোটার ফিঙ্গার করি। কিছুদিন পর নির্বাচন অফিসার অনিমেষ কুমার বসু আমাদের নাম্বারে ফোন করে ডেকে নিয়ে ০৩ ঘণ্টা আটকিয়ে রেখে পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করে, টাকা দিতে না পারায় আমাদের স্লিপ নম্বর নিয়ে ভোটার ফিঙ্গার ডিলেট করে দেয়।
যে সব ভুক্তভোগীদের আটকিয়ে রেখে ভয়ভীতি ও ভোটার ফিঙ্গার ডিলেট করে দেয় তাদের নাম উল্লেখ করা হলো, ০১। আলহাজ শেখ, ফরম নম্বর ( ১৫৭১৫৯৩৯৫) , পিতা আনিচ শেখ, ০২। মাহিম শেখ, ফরম নম্বর (১৫৭১৫৯৩৯৩), পিতা মহিবুর শেখ, ০৩। আবু মুসা শেখ, ফরম নম্বর ( ১৫৭১৫৯৩৯৬),পিতা মো. মুনসুর শেখ, ০৪। মো. নাইম শেখ, ফরম নম্বর (১৫৭১৫৯৩৯৪), পিতা আনিচ শেখ, ০৫। মো. আনিচ শরীফ, ফরম নম্বর (১৫৭১৩০৭৭০), পিতা আমেজ শরীফ।
আনিচ শরীফ নামের ভুক্তভোগী বলেন, ২০২৫ সালে হালনাগাদে ভোটার হই। তিন মাস নির্বাচন অফিসার অনিমেষ কুমার বসু কাছে গেলে তিনি স্লিপ দেখে বলেন, ওই ফিঙ্গার হবে না বাইরের জন্ম সনদ করা বলে। পরে আমাকে আবার নতুন করে ভোটার আবেদন করতে বলে। নতুন ভোটারের জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, পিতা মাতার আইডি কার্ড, নাগরিক সনদ, ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যয়ন পত্র, বিদ্যুৎ বিল, রক্তের গ্রুপ, হোল্ডিং নাম্বার সও সব দলিলাদি নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার বসুর কাছে গেলে তিনি আমাকে বলে, তোমার জন্ম নিবন্ধন বাইরের থেকে। তাই তুমি বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারবে না। ভুক্তভোগী আনিচ শরীফ বলেন, আমাকে ৩ তিন ঘণ্টা আটকে রেখে পুলিশে দেওয়ার ভয়-ভীতি দেখায় এবং আমার আম্মু আমাকে ছড়ানোর জন্য নির্বাচন অফিসে আসেন এবং ১০ হাজার টাকা দাবি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক ভুক্তভোগী বলেন, নির্বাচন অফিসার কিছু দালাল চক্র ও অফিস কর্মচারীদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বাইরের থেকে জন্ম নিবন্ধন করে আনা তাদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে নতুন ভোটার করছে। অথচ আমাদের সঠিক দলিলাদি থাকা সত্ত্বেও দিনের পর দিন ঘরতে হয়। নির্বাচন অফিসার যোগদানের পর থেকে একাধিক বাইরের জন্ম নিবন্ধন দিয়ে নতুন ভোটার করেছে। তাই দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে নতুন ভোটারদের জন্ম নিবন্ধন চেক করলেই সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। তার কাছে চাহিদামতো প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিয়েও পাওয়া যায় না সমস্যার সমাধান।
অভিযোগের সূত্র ধরে নির্বাচন কর্মকর্তার অনিমেষ কুমার বসুর কাছে, তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি অভিযোগ জানতে চাইলে, তিনি সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকার হন।
তিনি বলেন, আমি কোনো ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে বাধ্য নয়, আমার যদি ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে হয় তবে অনুমতি লাগবে। তবে আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।
তাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে উপর্যুক্ত বিষয়গুলো সঠিক তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জোর দাবি ভুক্তভোগীদের।