টিকটক কমেন্টকে কেন্দ্র করে লামায় সংঘর্ষ, নিরাপত্তাহীনতায় প্রবাসীর পরিবার
ক্রাইম রিপোর্টার: মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক
বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের একটি কমেন্টকে কেন্দ্র করে হামলা, হুমকি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে এক প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি উপজেলার ৫ নম্বর সরই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বট্রইল্লা পাড়ায় সংঘটিত হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার প্রবাসী বাংলাদেশি শামসুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় মহিউদ্দিন তার ছেলে ও দলবল নিয়ে এসে তার দোকানের কেয়াটেকার আব্দুল হাকিমের ওপর হামলা চালায়। এ সময় অভিযুক্ত মহিউদ্দিন দোকানের দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং অন্যথায় দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি প্রবাসী শামসুল ইসলামকে অবহিত করেন দোকানদার আব্দুল হাকিম। পরে শামসুল ইসলাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়ে অনলাইনে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান এ বি টেলিভিশন ও দৈনিক গণবার্তার কাছে। ভিডিওটি তাৎক্ষণিকভাবে আলীকদম সেনা জোন কমান্ডারের কাছেও পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে এ বি টেলিভিশন ও দৈনিক গণবার্তার সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয়রা জানান, মহিউদ্দিন গং-এর দীর্ঘদিনের ভয়ভীতি, অত্যাচার ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে প্রবাসী শামসুল ইসলামের স্ত্রী ও সন্তানরা বর্তমানে পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন।
অনুসন্ধানকালে অনেকেই অভিযুক্তদের নাম বলতে অস্বীকৃতি জানান। ভিডিও সাক্ষাৎকারে কথা বলা ব্যক্তিদের মধ্যেও এক ধরনের আতঙ্ক ও ভয় লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত মহিউদ্দিনের ছেলে রায়হান উদ্দিন সাবেক এলজিইডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের কেয়ারটেকার ছিলেন। সেই প্রভাবকে পুঁজি করে তারা অতীতের মতো এখনও এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মহিউদ্দিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে তার মেয়ে মিনা আরা বেগম ও তার জামাতার দেওয়া একটি যৌথ স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও তর্ক-বিতর্ক হয়। এই ঘটনাকেই পুরো ঘটনার সূত্রপাত বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে অভিযুক্তদের হামলা ও হুমকির ঘটনার সত্যতা একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী পক্ষ।
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।