April 27, 2026, 12:20 pm
শিরোনাম :
সিংড়ার চলনবিলে বজ্রপাতে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হাতিয়ায় হিন্দু পল্লী চিকিৎসকের দোকানে হামলার অভিযোগ, আটক ৩ ​জলঢাকায় ফুয়েল কার্ড প্রাপ্তি আরও সহজ: শর্ত শিথিল করল উপজেলা প্রশাসন বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু, এলাকায় শোক সুন্দরগঞ্জে বজ্রপাতে শিশুসহ ৩ জন নিহত, আহত ১ এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে হলের চলন্ত ফ্যান খুলে পড়ল শিক্ষার্থীর মাথায় লামার সরইয়ে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তীব্র গরমে ১৮ শিক্ষার্থীর হিট স্টক কুমিল্লায় এআরও বুলেট বৈরাগী হত্যার প্রতিবাদে ডুমুরিয়ায় মানববন্ধন লোহাগাড়ার বড়হাতিয়ায় ৫০তম জবলে সিরাত মাহফিল সম্পন্ন, ঐতিহ্যের পেছনে বলিখেলার ইতিহাস নেছারাবাদে জন্মগতভাবে বিকলঙ্গ সন্তান ত্যাগে পিতার চাপ, মায়ের দৃঢ় অবস্থান

ডিমলায় তেলের ‘ফুয়েল কার্ড’ পদ্ধতি: শৃঙ্খলার মাঝেও সাধারণ জনগণের দীর্ঘশ্বাস!

আব্দুল হালিম জেলা প্রতিনিধি নিলফামারী

ডিমলায় তেলের ‘ফুয়েল কার্ড’ পদ্ধতি: শৃঙ্খলার মাঝেও সাধারণ জনগণের দীর্ঘশ্বাস!

​আবদুল হালিম, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি (দৈনিক মানব বার্তা)

​ডিমলা (নীলফামারী): নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার প্রধান দুটি জ্বালানি কেন্দ্র—মেসার্স আফতাব ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স আলম ফিলিং স্টেশনে এখন প্রশাসনের কঠোর তদারকিতে ‘ফুয়েল কার্ড’ পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও এই পদ্ধতিতে তেল বিতরণে একটি শৃঙ্খলা ফিরেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, কিন্তু এর অন্য পিঠে দেখা গেছে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি ও অসন্তোষের চিত্র।
​নিবন্ধিতদের স্বস্তি, সাধারণের হাহাকার:
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব মোঃ ইমরানুজ্জামানের নির্দেশনায় পাম্প দুটিতে প্রতিটি গাড়িতে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। যাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র এবং প্রশাসনের ইস্যু করা ফুয়েল কার্ড আছে, তারা কিছুটা সুশৃঙ্খলভাবে তেল পাচ্ছেন। কিন্তু বিপত্তি বেধেছে সেইসব সাধারণ মানুষদের নিয়ে, যাদের কাছে এখনো কার্ড পৌঁছায়নি বা যারা জরুরি প্রয়োজনে লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
​কার্ডহীনদের শূন্য হাতে ফেরা:
সরেজমিনে দেখা যায়, পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সাধারণ চালক তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কার্ড না থাকায় অনেককেই পাম্প থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, “জরুরি প্রয়োজনে আমাদের তেলের দরকার, কিন্তু কার্ডের গ্যাঁড়াকলে আমরা তেল পাচ্ছি না। নিয়ম ভালো, কিন্তু নিয়ম যেন আমাদের ভোগান্তির কারণ না হয়।”
​শৃঙ্খলার আড়ালে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ:
যদিও কার্ডে সিরিয়াল নাম্বার, তারিখ এবং পরিমাণ লিখে রেজিস্টার এন্ট্রি করা হচ্ছে, তবুও পাম্প চত্বরে কার্ডহীন সাধারণ মানুষের ভিড় ভিড় ছিল।পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছিল যারা কার্ড পাননি, তাদের জীবন আজ স্থবির। অনেকে অভিযোগ করেছেন, কার্ড করার প্রক্রিয়া বা সহজলভ্যতা নিশ্চিত না করে এমন কড়াকড়ি আরোপ করায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

​জনজীবন ও বাস্তবতা:
তেলের এই সংকটের মুহূর্তে প্রশাসনের এই উদ্যোগ সিন্ডিকেট রোখার জন্য সহায়ক হলেও, কার্ডবিহীন সাধারণ জনগণের দুর্দশা লাঘবে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে একদিকে যখন কার্ডধারীরা স্বস্তিতে তেল নিচ্ছেন, অন্যদিকে কার্ডহীন শত শত মানুষ তেলের অভাবে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।

​উপসংহার:
ডিমলার সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু কার্ডধারীদের অগ্রাধিকার না দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সবার জন্য তেলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হোক। তেলের বাজারে এই ‘কার্ড যুদ্ধ’ যেন সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে না তোলে, সেজন্য প্রশাসনের আরও নমনীয় ও কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা