কুমিল্লায় শিক্ষককে কুপিয়ে জখমের প্রতিবাদে নীলফামারীতে মানববন্ধন
শহিদুল ইসলাম : নীলফামারী
১৯ এপ্রিল ২০২৬
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নীলফামারীতে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নীলফামারী সরকারি কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক খাইরুল ইসলামকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। আহত ওই শিক্ষক নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নীলফামারী সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম মিরাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করেন কলেজের শিক্ষকরাও। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক যখন কর্মস্থলে নিরাপদ থাকেন না, তখন সেটি জাতির জন্য লজ্জার। নীলফামারীর সন্তান খাইরুল ইসলামের ওপর যে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে, তা পুরো শিক্ষক সমাজের ওপর হামলা।
বক্তাদের দাবি
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক সোলায়মান আলী বলেন, “শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। যারা নিজ জেলা ছেড়ে দূর-দূরান্তে গিয়ে শিক্ষা সেবা দিচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘শিক্ষক সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করা জরুরি।”
শিক্ষার্থী বক্তাদের মধ্যে নাজমুল ইসলাম কাজল (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ) ও ইমদাদুল হক মিলন (ইংরেজি বিভাগ) অভিযোগ করেন, এই হামলার নেপথ্যে উসকানিদাতা হিসেবে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান জাহাঙ্গীর হোসেনের হাত রয়েছে। অবিলম্বে তাকেসহ সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে খাইরুল ইসলামের ওপর হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।