খাগড়াছড়ির লোগাং ট্র্যাজেডি: তিন দশক পরও রয়ে গেছে বিতর্ক ও বেদনার স্মৃত
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে বহুল আলোচিত ও বেদনাদায়ক একটি ঘটনা হলো খাগড়াছড়ির লোগাং ট্র্যাজেডি। ১৯৯২ সালের ১০ এপ্রিল সংঘটিত এই ঘটনাকে ঘিরে আজও রয়েছে ভিন্নমত, বিতর্ক এবং নানা বর্ণনা।
স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন পক্ষের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই সময় লোগাং এলাকায় বাঙালি পুনর্বাসিত জনগোষ্ঠী ও পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ঘটনার দিন হঠাৎ করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। এতে বহু মানুষ হতাহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, যদিও সঠিক সংখ্যাটি নিয়ে এখনো ঐকমত্য নেই।
কিছু বর্ণনায় বলা হয়, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় একটি স্থানীয় ঘটনার জেরে, যা পরে বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নেয়। অন্যদিকে, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের জাতিগত, রাজনৈতিক ও ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ এই ধরনের ঘটনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
লোগাংয়ের সেই দিনের ঘটনায় ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হতাহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানা যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে বিভিন্ন পক্ষ একে অপরকে দায়ী করে আসছে। পাহাড়ি সংগঠনগুলো যেখানে বাঙালি ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করেছে, সেখানে বাঙালি পুনর্বাসিতদের একটি অংশ দাবি করে যে, তারা হামলার শিকার হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, লোগাং ট্র্যাজেডি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জটিল সংকটের প্রতিফলন। তারা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্যসংরক্ষণ এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরির উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
তিন দশক পেরিয়ে গেলেও লোগাংয়ের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি এখনো অনেকের মনে বেদনা জাগায়। ইতিহাসের এই অধ্যায় নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
✍️ প্রস্তুতকারক:
রেজাউল করিম রিয়াদ
লামা উপজেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান