সিরাজগঞ্জে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ‘সখ্যতা’ নিয়ে আলোচনা
মোঃ সিমান্ত তালুকদার
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ
৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে ততটা সক্রিয় না থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কিছু শীর্ষ নেতার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে উঠেছে—এমন অভিযোগ ও গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের কিছু প্রভাবশালী নেতা, যাদের কেউ কেউ পূর্বে সক্রিয়ভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তারা সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি ও বৈঠকে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। এদের মধ্যে ব্যবসায়ী ও সাবেক জনপ্রতিনিধি পর্যায়ের কয়েকজনও রয়েছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দলীয় অফিস ভাঙচুর বা অতীতে সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তিকেও এখন দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রমে দেখা যাচ্ছে। তবে তারা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহী। তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে কানাঘুষা থাকলেও শীর্ষ নেতাদের অবস্থানের কারণে অনেকে মুখ খুলছেন না।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে নানা সমঝোতা ও যোগাযোগ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন দলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা থাকতে পারে বলেও তারা ধারণা করছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবে একাধিক নেতার সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মামলা-হয়রানি থেকে সুরক্ষা বা রাজনৈতিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে—এমন কথাও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সার্বিকভাবে, সিরাজগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য এলে প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।