June 15, 2026, 10:34 am
শিরোনাম :
সিংড়ার চলনবিলে বজ্রপাতে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হাতিয়ায় হিন্দু পল্লী চিকিৎসকের দোকানে হামলার অভিযোগ, আটক ৩ ​জলঢাকায় ফুয়েল কার্ড প্রাপ্তি আরও সহজ: শর্ত শিথিল করল উপজেলা প্রশাসন বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু, এলাকায় শোক সুন্দরগঞ্জে বজ্রপাতে শিশুসহ ৩ জন নিহত, আহত ১ এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে হলের চলন্ত ফ্যান খুলে পড়ল শিক্ষার্থীর মাথায় লামার সরইয়ে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তীব্র গরমে ১৮ শিক্ষার্থীর হিট স্টক কুমিল্লায় এআরও বুলেট বৈরাগী হত্যার প্রতিবাদে ডুমুরিয়ায় মানববন্ধন লোহাগাড়ার বড়হাতিয়ায় ৫০তম জবলে সিরাত মাহফিল সম্পন্ন, ঐতিহ্যের পেছনে বলিখেলার ইতিহাস নেছারাবাদে জন্মগতভাবে বিকলঙ্গ সন্তান ত্যাগে পিতার চাপ, মায়ের দৃঢ় অবস্থান

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন হাফেজ রায়হান

ফাতেমা আকতার হাতিয়া ( নোয়াখালী) প্রতিনিধি

ছোট শরীরে বড় স্বপ্ন: হাফেজ রায়হানের অদম্য অভিযান,

ছোট শরীরে বড় স্বপ্ন: হাফেজ রায়হানের গল্প,

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন হাফেজ রায়হান,

ফাতেমা আকতার

হাতিয়া ( নোয়াখালী) প্রতিনিধি

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী আবু রায়হান। বয়স ১৬ বছর হলেও উচ্চতা মাত্র সাড়ে তিন ফুট। কিন্তু ছোট শরীরে আছে বিশাল মনোবল, আছে এক অনন্য আত্মবিশ্বাস। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমে জয় করেছেন জীবনের প্রতিকূলতা। সীমাবদ্ধতাকে পরিণত করেছেন শক্তিতে। পবিত্র কুরআন হেফজ শেষ করে পড়ছেন একটি কওমি মাদ্রাসার কিতাব বিভাগে। স্বপ্ন দেখছেন একজন বড় আলেম হয়ে দেশের সেবা করার। এজন্য সে সকলের দোয়া চায়।

হাফেজ আবু রায়হান খবরের কাগজকে বলেন, আমার বাবা কৃষি কাজ করে পরিশ্রম করে আমাকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও আমার মনে কোন দুঃখ নেই। আল্লাহ যে আমাকে এই পথে নিয়ে আসছে এজন্য আমি শুকরিয়া আদায় করি। আমি যেন বড় আলেম হয়ে দ্বীনের খেদমত করতে পারি এজন্য সকলের দোয়া চাই।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের শরিয়তপুর গ্রামের কৃষক বাবুর মিয়ার সন্তান হাফেজ রায়হান। চার ভাইবোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি তার ছিল অগাধ ভালোবাসা। পিতামাতার অশেষ ত্যাগ ও ভালোবাসায় তিনি আজ সমাজের এক অনুপ্রেরণার নাম। চার মাস আগে প্রকল্প দারুসসুন্নাহ মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে সম্পূর্ণ কোরআন হেফজ শেষ করে পড়ছেন কিতাব খানার চতুর্থ জামাতে। তার বাবার স্বপ্ন সে একজন বড় আলেম হবে।

রায়হানের সহপাঠী ও শিক্ষকরা খবরের কাগজকে জানান, সে অত্যন্ত মেধাবী ও অধ্যবসায়ী। শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই তাকে দুর্বল করেনি। বরং সে তার প্রতিবন্ধকতাকেই বানিয়েছে সফলতার সোপান। অন্যদের মতো দেহ নেয়, কিন্তু মন তার পাহাড়ের মতো দৃঢ়। অন্য ছাত্রদের সাথে লেখাপড়া এবং খেলাধুলায় ভালো সময় পার করেন রায়হান।

প্রকল্প দারুসসুন্নাহ মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান মাওলানা জাকের হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, রায়হান আমাদের প্রতিষ্ঠানের গর্ব। সে শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও তার মেধাশক্তি অনেক প্রখর। এ ধরনের মেধাবী ছাত্রদের পড়াশোনায় সরকারি সহায়তা পেলে তারা আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবে।

গ্রামে এখন রায়হান গর্বের নাম। ছোট শরীরে বড় স্বপ্ন বুকে নিয়ে সে এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। একদিন সে ইসলামের দিগন্তে আলো ছড়িয়ে সবাইকে গর্বিত করবে—শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজন এবং বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটবে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

ছোট দেহ, বড় স্বপ্ন, অদম্য মনোবল রায়হানের গল্প প্রমাণ করে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো কৃতিত্বের পথে বাধা হতে পারে না। অধ্যবসায়, ইচ্ছাশক্তি এবং পরিশ্রম থাকলে যে কোনো প্রতিবন্ধকতাকেই জয় করা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা