৩৫ লাখ ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—
সেতু চাই, দিতে হবে, দিয়েই দাও
একেএম নুর আলম জিকু
ভোলা জেলা প্রতিবেদক
বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলা এখনও দেশব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিচ্ছিন্ন। প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৃষি উৎপাদনে সমৃদ্ধ এই জেলা ‘ইলিশের রাজত্ব’ হিসেবেই পরিচিত নয়—এখানে উৎপাদিত ধান, রবিশস্য, তরমুজ, বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি সারা দেশে রপ্তানি করা হয়। উন্নয়ন সম্ভাবনায় ভোলাকে অনেকেই ‘বাংলাদেশের উপ-রাজধানী’ বলেও উল্লেখ করে থাকেন।
দীর্ঘদিন ধরে ভোলাবাসী কয়েকটি মৌলিক দাবি সামনে রেখে আন্দোলন করে আসছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো—
১. ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ
২. মেডিকেল কলেজ স্থাপন
৩. শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা
৪. একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন
৫. ভোলার গ্যাস ভোলার জনগণের জন্য ডোর-টু-ডোর সরবরাহ নিশ্চিত করা
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভোলা-বরিশাল সেতুটি নির্মিত হলে যোগাযোগ ও বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তন আসবে, ভোলা রূপ নেবে দেশের বিকল্প রাজধানীতে।
এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ভোলার একদল তরুণ ঢাকা অভিমুখে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেন। পথে তারা পদ্মা সেতু পার হতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণে অনুমতি দেয়নি। ফলে তারা ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমা দিয়ে পাড়ি দিতে বাধ্য হন। এতে কয়েকজন তরুণ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাতের অন্ধকারে কয়েকজনকে নদীতে দেখা না যাওয়ায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে স্থানীয়রা অসুস্থ অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে ট্রলারে তুলেন।
ভোলাবাসীর আশা—
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের সদিচ্ছা ও পদক্ষেপ থাকলে বহু প্রত্যাশিত ভোলা সেতুর কাজ দ্রুত শুরু হবে।
ইনশাআল্লাহ, উন্নয়নের সেতু একদিন ভোলার ভাগ্যের কাঠামো বদলে দেবে—এমন বিশ্বাসই এখন ৩৫ লাখ মানুষের।