মজলুম জননেতা ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
মোঃ সিমান্ত তালুকদার
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ।
মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ
১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। আজ ১৭ নভেম্বর তাঁর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী।
১৯৭৬ সালের এই দিনে তিনি ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক সন্তোষে তাকে চিরনিদ্রায় সমাহিত করা হয়।
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর)। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। পরে তাকে টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক সন্তোষে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে ভাসানীর মাজারে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এদিকে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সন্তোষ মাজারপ্রাঙ্গণে সাত দিনব্যাপী ‘ভাসানী মেলা’ চলছে। ইতোমধ্যেই মেলা প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। সোমবার ভোর থেকেই ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিএনপিসহ নানাদল, সংগঠন ও ভক্ত-মুরিদানরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন এই মহান নেতার মাজারে। ক’দিন ধরেই সারাদেশ থেকে মুরিদান ও অনুসারীরা সন্তোষে এসে জড়ো হচ্ছেন।

১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মওলানা ভাসানী। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও জীবনের সিংহভাগই তিনি কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে এবং সেখানেই শায়িত আছেন।
কৈশোর-যৌবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। একসময় বাংলা-আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। লাইন-প্রথা উচ্ছেদ, জমিদারদের নিপীড়নসহ সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেছেন সারাজীবন। তার উদ্যোগে ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন দেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় এনে দেয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি সর্বদলীয় ওয়ার কাউন্সিলের উপদেষ্টা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ফারাক্কা লং মার্চ নেতৃত্ব দেওয়া।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার ছিল গভীর হৃদ্যতা। ভাসানী বঙ্গবন্ধুকে স্নেহ করতেন পুত্রস্নেহে, বঙ্গবন্ধুও তাকে সম্মান করতেন পিতার মতো।
১৯১১ সালে মওলানা মোহাম্মদ আলীর সান্নিধ্যে এসে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯১৭-১৮ সালে প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে রেশমী রুমাল আন্দোলনে যুক্ত হন এবং ১৯১৯ সালে কারাবরণ করেন। এরপর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের নেতৃত্বে স্বরাজ আন্দোলন, খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
১৯২৫-২৭ সালে আসাম ও পূর্ব বাংলায় কৃষক-মজুরদের সংগঠিত করে জমিদার ও সুদখোর মহাজনবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯২৮ সালে কলকাতার খিলাফত সম্মেলন এবং ১৯২৯ সালে আসামের ভাসানচরে অনুষ্ঠিত কৃষক-প্রজা সম্মেলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।