October 3, 2026, 4:22 pm
শিরোনাম :
হাতিয়ায় ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রেস-ক্লাব ট্রাস্টের ঢাকা দক্ষিণাঞ্চলের (সাবেক ফরিদপুর) পাঁচ জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত ভোলা পূর্ব ইলিশা জংশন বাজার মাঠে জমজমাট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২ অক্টোবর ২০২৬ বাদ জুম্মা শহীদ হাদী চত্বর শাহবাগ ঢাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি মোঃ সিমান্ত তালুকদার জিন্দারপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাজ্জাদুল হকের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ হাতিয়ায় ‘পপি ফ্রিজ শো-রুম’-এর শুভ উদ্বোধন গোপালগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ‘ফ্যাব্রিক লাইব্রেরি’র যাত্রা শুরু, দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত জলঢাকায় ছাগল-ভেড়ার পিপিআর টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন সোনাদিয়ার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী ফাহিমা গিয়াস হাতিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

ভাপা পিঠা : বাংলার শীত-ঐতিহ্যের মোলায়েম স্বাদ

স্টাফ রিপোর্টার

ভাপা পিঠা : বাংলার শীত-ঐতিহ্যের মোলায়েম স্বাদ

রেসিপি লেখিকা : সৈয়দা দিল আরা আক্তার নিরা

বাংলার ঋতুচক্রে শীত শুধু কুয়াশা আর শীতল বাতাসই আনে না—গ্রামের ঘরে ঘরে নিয়ে আসে নতুন ধানের ঘ্রাণ, উঠোনে পিঠা বানানোর সরগরম আয়োজন, আর আড্ডার উষ্ণতা। সেই পিঠার তালিকায় সবচেয়ে আদরে রাখা নাম—ভাপা পিঠা। নরম তুলতুলে এই পিঠা যেন বাঙালির স্মৃতি-ভাণ্ডারের চিরন্তন অংশ।

ইতিহাস ও উৎস

পিঠা বাংলাদেশের গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতির একটি প্রাচীন উপাদান। নবান্ন উৎসবের সঙ্গে পিঠা প্রস্তুতির প্রচলন বহু পুরনো। ধান-চাল-নারকেল-গুড়—এই সহজলভ্য উপাদানের সমন্বয়ে শীতকালে পিঠা বানানোর ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।
ভাপা পিঠা মূলত চালের গুঁড়ো, নারকেল ও গুড় দিয়ে তৈরি একধরনের বাষ্পে-সেদ্ধ পিঠা। গ্রামের মাটির চুলো, হাঁড়ি-পাতিল বা বিশেষ ‘পিঠার সাঁজোয়া’ ব্যবহার করে ভাপে সেদ্ধ করা হতো এই পিঠা।

বাংলার গৃহস্থ নারীরা নতুন ধানের গুড়ো দিয়ে ভাপা পিঠা বানাতেন অতিথি আপ্যায়ন, শীতের আসর কিংবা নবান্ন উৎসবে। সময়ের সাথে শহুরে রান্নাঘরে স্টিমার বা রাইস কুকারে ভাপা পিঠার স্বাদ অপরিবর্তিত ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছে।

—

ভাপা পিঠার রেসিপি

উপকরণ

চালের গুঁড়ো — ২ কাপ

নারকেল কুচি — ১ কাপ

খেজুরের গুড় — ½–¾ কাপ (স্বাদ অনুযায়ী)

লবণ — এক চিমটি

গরম পানি — প্রয়োজনমতো

চালের গুঁড়ো প্রস্তুতি (ইচ্ছে হলে বাড়িতে)

১. চাল ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে আধা ঘণ্টা শুকিয়ে নিন।
২. শুষ্ক অবস্থায় শিল-পাটা বা ব্লেন্ডারে গুঁড়ো করুন।
৩. হালকা ভেজা গুঁড়ো চালনি করে নিন।

ভাপা পিঠা তৈরির ধাপ

১. গুঁড়ো ভেজানো
চালের গুঁড়োর সাথে একটু লবণ মেশান। হাতে গরম পানি ছিটিয়ে গুঁড়োটি ভিজিয়ে ঝুরঝুরে করে নিন। যেন মুঠো করলে শক্ত হয়, কিন্তু চাপ ছাড়লে আবার ঝুরঝুরে হয়ে যায়।

২. পুর তৈরি
নারকেল কুচির সাথে গুড় মেশান। চাইলে এলাচ গুঁড়ো দিতে পারেন।

৩. পিঠ গড়া

এক চামচ ভেজানো চালের গুঁড়ো দিয়ে হালকা চাপুন।

উপরে পুর দিন, আবার গুঁড়ো দিয়ে ঢেকে দিন।

৪. ভাপে সেদ্ধ করা
স্টিমার বা হাঁড়ির ফুটন্ত পানির ওপরে ঝাঁজরি রেখে ঢেকে দিন।
৫–৭ মিনিট ভাপ দিলেই পিঠা ফুলে নরম হয়ে তৈরি।

পরিবেশন ও পরিবেশনের ইতিহাস

আগে গ্রামে শীতের সকালে ভাপা পিঠা খাওয়া ছিল এক ধরনের উৎসব। হাঁড়ির ঢাকনা খুলতেই ভেসে আসা ধোঁয়া আর নারকেল-গুড়ের সুগন্ধ পরিবারের সবাইকে টেনে আনত রান্নাঘরে। আজও সেই স্মৃতি অমলিন—শহরের রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ঘরোয়া আয়োজন—সব জায়গাতেই শীত আসলেই ভাপা পিঠার রাজত্ব।

শেষ কথা

ভাপা পিঠা শুধু একটি খাবার নয়—এটি বাংলার আবেগ, ঐতিহ্য ও শীত-সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক। ধোঁয়া ওঠা নরম এই পিঠা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একটু যত্ন আর সময় নিয়ে তৈরি ঘরোয়া খাবারের স্বাদ কোনো আধুনিক রান্নার সঙ্গে তুলনাহীন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা