August 16, 2026, 9:29 am
শিরোনাম :
ঢাকা-গোপালগঞ্জ ট্রেনের ভাড়া ১৪৫ টাকা নির্ধারিত করায় সাধারণ মানুষের স্বস্তি জলঢাকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। ১৫ আগস্ট ইসলামী শিক্ষা দিবস পালন করলো ছাত্র শিবির নিলফামারী ১৫ আগস্ট নেই কোনো আয়োজন, নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধু সমাধি সুন্দরগঞ্জে জমি বিরোধে হামলা, ভিডিপি দলনেতা-দলনেত্রীসহ আহত ১০ রায়গঞ্জের টিটিসি ধানগড়াতেই চাই মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুলা আল মামুন সম্মানিত নীলফামারী জেলা প্রশাসককে গ্রীন ভয়েসের দুর্লভ রক্তকাঞ্চন গাছ বিতরণ ​নীলফামারী জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধার ও গ্রেফতার

​বই ছেড়ে স্মার্টফোনে আসক্তি: ধ্বংসের মুখে তারুণ্য

আব্দুল হালিম ডিমলা উপজেলা প্রতিনিধি

​বই ছেড়ে স্মার্টফোনে আসক্তি: ধ্বংসের মুখে তারুণ্য?

আব্দুল হালিম ডিমলা উপজেলা প্রতিনিধি

পড়ার টেবিলে থাকার কথা থাকলেও বাজারের এক কোণে দলবেঁধে গেম খেলায় মত্ত কিশোরেরা।
​ বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন প্রযুক্তির আশীর্বাদ হওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা অভিশাপে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে শহর বাজার ও গ্রামের স্কুল, কলেজ সহ না প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানের আনাচে-কানাচে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে পাবজি (PUBG) ও ফ্রি ফায়ার (Free Fire)-এর মতো অনলাইন গেমের আসক্তি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সদর ইউনিয়ন হাট কুটিপাড়া প্রাইমারি স্কুলের পিছনে ও একই ইউনিয়নের ছোট পুল বাজারে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। যেখানে শিক্ষার্থীদের হাতে বই থাকার কথা, সেখানে একদল কিশোর গোল হয়ে বসে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে আছে। তাদের চোখে-মুখে উত্তেজনার ছাপ, মুখে অকথ্য ভাষা। পড়াশোনা কিংবা ভবিষ্যৎ ভাবনার ছিটেফোঁটাও নেই সেখানে। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাজারের নির্জন কোণে কিংবা গাছের নিচে বসে ভার্চুয়াল যুদ্ধে সময় নষ্ট করছে।
​তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ:
ছোট পুল বাজারের সার ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান,
ভাই আমি সহ সচেতন নাগরিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। স্থানীয় এক অভিভাবক ক্ষোভ এপ্রকাশ করে বলেন, “যে বয়সে তাদের মাঠে খেলাধুলা করার বা লাইব্রেরিতে পড়ার কথা, সে বয়সে তারা ডিজিটাল মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এটা শুধু সময়ের অপচয় নয়, বরং নৈতিক অবক্ষয়।”

​বিশেষজ্ঞদের মত:
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ এসব গেম খেলার ফলে কিশোরদের মধ্যে আক্রমণাত্মক আচরণ বাড়ছে এবং পড়াশোনার প্রতি অনীহা তৈরি হচ্ছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবে।
​আমাদের করণীয়:

​অভিভাবকদের তদারকি: সন্তানদের স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
​বিকল্প বিনোদন: কিশোরদের মাঠের খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করতে হবে।
​সামাজিক সচেতনতা: এলাকাভিত্তিক সচেতনতামূলক সভা ও সেমিনার আয়োজন করা প্রয়োজন।
​আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই সম্মিলিত পদক্ষেপ না নিলে এই আসক্তি সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

“আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই দৃশ্যে স্তম্ভিত। প্রযুক্তির অপব্যবহার আমাদের সন্তানদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। যে হাতে বই থাকার কথা, সেই হাতে আজ ধ্বংসাত্মক গেমের নেশা। এই কিশোররাই আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ, অথচ তারা আজ বাজারের আড়ালে সময় নষ্ট করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং অভিভাবকদের অনুরোধ করছি—দয়া করে আপনার সন্তানের হাতে স্মার্টফোন নয়, বই তুলে দিন। সমাজ ও প্রশাসনকে এখনই এই ডিজিটাল আসক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা