বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার সিংহী ডেইজির স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন—এক দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযানের অনন্য দলগত সাফল্য
ডা. নাজমুল যে ঘটনাটি ফেসবুকে বর্ণনা করেছে—তা শুধুই একটি গল্প নয়, বরং এক বাস্তব, রোমহর্ষক ও প্রশংসনীয় উদ্ধার অভিযানের জীবন্ত দলিল। তাঁর বর্ণনায় স্পষ্ট হয়েছে কীভাবে দায়িত্ব, দক্ষতা ও মানবিকতার সমন্বয়ে একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। ২০০৭ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দুই বছর আমি বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রাণিপুষ্টি কর্মকর্তা (Animal Nutrition Officer) হিসেবে নিয়োজিত ছিলাম। চিড়িয়াখানার মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে টিম ওয়ার্ক বা দলগত কাজের Result focus যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা আমি সেই সময় থেকেই জানি।
৫ ডিসেম্বর জাতীয় চিড়িয়াখানায় সিংহী ডেইজি শেড থেকে বেরিয়ে আসার পর মুহূর্তেই সৃষ্টি হয় জটিল পরিস্থিতি। দর্শনার্থীদের আতঙ্ক, হরিণদের অ্যালার্ম কল, চারপাশের বিশৃঙ্খলা—সব মিলিয়ে এটি দাঁড়ায় একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সংকটে। ঠিক সেই মুহূর্তে চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি টিম, কিউরেটর, এনিম্যাল কেয়ারটেকার, নিরাপত্তাকর্মী—সবাই অবিশ্বাস্য সমন্বয় ও সাহসিকতার পরিচয় দেন।

ডা. নাজমুলের—
-তাৎক্ষণিক ঝুঁকি মূল্যায়ন,
-ভেট টিমকে সঠিকভাবে মবিলাইজ করা,
-সিংহীর আচরণ পর্যবেক্ষণ,
-ছাদে উঠে সুনির্দিষ্ট ট্রাঙ্কুলাইজিং শট নেওয়া,
এবং পুরো অপারেশনকে ঠান্ডা মাথায় নেতৃত্ব দেওয়া—
এগুলো তাঁর অসামান্য দক্ষতা, মেধা ও দায়িত্বশীলতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্মানিত মহাপরিচালক ডঃ মোঃ আবু সুফিয়ান মহোদয়ের সদয় উপস্থিতি এই উদ্ধারকারী টিমকে অসাধারণ মনোবল জুগিয়েছে। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার মনোভাব আমাদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নেতৃত্বগুণের অনন্য পরিচায়ক। তাঁর উপস্থিতি গোটা টিমকে আরও সংগঠিত, আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় করেছে।
রাত নেমে যাওয়ার আগে বহু ঝুঁকি পেরিয়ে টিম অবশেষে কোনো ধরনের ক্যাজুয়ালটি ছাড়াই ডেইজিকে নিরাপদে তার শেডে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়—যা নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক রেসকিউ অপারেশন।
সবশেষে,
ডা. নাজমুলসহ পুরো রেসকিউ টিমকে অভিনন্দন।
তাদের অসীম সাহস, প্রস্তুতি, পেশাদারিত্ব এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার আমাদের সবার জন্য গর্বের।
জাতীয় চিড়িয়াখানার এই সফল অপারেশন আমাদের শেখায়—
যখন সঠিক নেতৃত্ব, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সঠিক টিমওয়ার্ক এক জায়গায় মিলিত হয়, তখন অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। ডাঃ নাজমুলকে আবারো স্যালুট জানাই।